শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর বিজয়ের গান গাইলেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক রাজু

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮:২০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর বিজয়ের গান গাইলেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক রাজু
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারের বিজয়ের গান গেয়ে ও নেট দুনিয়ায় প্রচার করে ইতিহাস গড়লেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক গীতিকার কণ্ঠশিল্পী রাজু আহমেদ রমজান।,দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা বিগত সংসদ নির্বাচন পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের বিজয় নিয়ে কোন গান গুগলে প্রচার হয়নি এর আগে গুগল সার্চ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সাংবাদিক গীতিকার রাজু আওয়ামী লীগ সরকারের বিজয়ের গান প্রচার করে প্রথম ইতিহাস গড়েছেন নেট দুনিয়ায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয় গোপালগঞ্জের  টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা মেয়র তুজাম্মেল হক টুটুল এ গানটি ভার্চুয়ালী শুভ উদ্বোধন করার কথা ছিল।। ইউটিউব চ্যানেল  Jago Bangladesh এবং Raju Ahmed Romjan ফেইসবুক পেইজে গানটি প্রচার করা হয় শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে। সাংবাদিক রাজু রচিত গানটি স্হানীয়ভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে দ্বাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে “ অভাবগ্রস্থ বাংলাদেশটা রোল মডেল হইয়া গেছে শেখ হাসিনা উন্নয়ন করছেন, হবে স্মার্ট বাংলা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা” শিরোনামে স্বরচিত গান নেট দুনিয়ায় প্রচার করেন তিনি।
গানের কথামালায় বর্ণিত হয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদানের কথা। পাশাপাশি জাতির জনকের দেখা স্বপ্ন শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাস্তবায়নের কথা। পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, ফ্লাইওভার-মেট্রোরেল, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অসামান্য অবদান, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের বিষয়টি গানে উঠে এসেছে।
গানে গানে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন প্রচারে গত ৩-৪ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল পরিদর্শন শেষে সমাধিস্থল সংলগ্ন চত্বর, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়, বাস স্টেশন, কোটালিপাড়া উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভায় গানটি প্রচার করে‘ গোপালগঞ্জ-৩ আসন (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) ঘুরে বেড়িয়েছেন বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিভৃতচারী শুভাকাঙ্ক্ষী সাংবাদিক গীতিকার রাজু আহমেদ রমজান।
উল্লেখ্য, জাতীয় দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন ও বাংলা খবর বিডির সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে অর্পিত দায়িত্বপালন করছেন রাজু।
দৈনিক ভোরের কাগজ, আমাদের সময়, আমাদের অর্থনীতি, জাগো নিউজসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ইতিপূর্বে কাজ করেছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য রাজু ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যান ট্রাস্ট এবং ১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ তহবিল থেকে দ্বিতীয়বার আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত হন তিনি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’