শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কচুয়ায় ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০২৪, ৫:৪৮ পিএম
কচুয়ায় ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি

ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ছোট বড় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি।

রবিবার ( ২৪ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন সহ সদর উত্তর ও দক্ষিন ইউনিয়নের গ্রামের উপর দিয়ে টর্নেডো আঘাত আনে। এসময় বহু ঘরের চাল ও টিন উরে গেছে। শতশত গাছ উপড়ে গেছে ডালা-পালা তছনছ হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের ঝড়ে ও তুমল বৃষ্টির মধ্যে বয়ে যাওয়া ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার মধ্যে থাকা ঘর-বাড়ি,গাছপালা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পার্শ্চবর্তী গ্রাম গুলোতে বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু তেমন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

প্রত্যক্ষর্দশীরা জানান, ঘুর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর দিক থেকে পূর্ব-দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়। যে দিকে ঝড় গেছে সে দিকে গাছপালা,বাড়ি-ঘর,মুরগী খামার,টিনসেটের মসজিদ ঘর ও ফসলী জমি ভূট্টা এবং বোরধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Model Hospital

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎ ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের জিলহজ্ব বেগম, এমরান হোসেন, হক মিয়া, আলী আহমেদ, লতিফপুর গ্রামের উত্তর-পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদটি, নোয়াগাঁও গ্রামের ওহাবা বেগম, তেতৈয়া সোহরাব হোসেন মেম্বার, কাউছার আলম, জলা তেতৈয়া অরুণ বৈদের দোকান ঘর, সিংড্ডা, খিড্ডা, সদর দক্ষিন ইউনিয়ন ধলি কচুয়া, কোমরকাশা, রাজাপুর গ্রামের ব্যাপক বিভিন্ন পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

লতিফপুর গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, গত রাতে হঠাৎ করে গ্রামের উপর বয়ে যাওয়া ঝড়ে গ্রামকে লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেছে। অনেকেরই ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। শুধু তাই নয় ফল গাছ ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিধবা জিলহজ্ব বেগম বলেন, হঠাৎ পশ্চিম দিক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার একমাত্র বসতঘর বাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায়। আমার স্বামী ও কোনো ছেলে সন্তান নেই, আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নেই। ভিক্ষা করে রাস্তার পাশে ছোট ঘরটা করেছি,ঝড়ে আমার সবকিছু নিয়ে যায়। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।

একই উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের সোহরাব হোসেন বলেন, রাতে কোনো কিছু বোঝার আগেই হঠাৎ বিকট শব্দ হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই থেমে যায়। ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখি আমার পোল্ট্রি র্ফামের ঘর ভেঙ্গে পুকুরে পরে অনেক মুরগী মারা গেছে । এতে আমার প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কচুয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম বেলায়াত হোসেন বলেন, সন্ধ্যার ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। তবে এখন পর্যন্ত কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বা কত সংখ্যক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন তা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

কচুয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, হঠাৎ ঝড়ে ফসলী জমি বিশেষ করে ভূট্টা ও বোরধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খবর পেয়েছি। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করছে।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হাসান বলেন, হঠাৎ ঝড়ে উপজেলার বিশেষ করে ২টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর পেয়েছি। ইউপি সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করা হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital