শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাড. হেলাল উদ্দীনের উদ্যোগে ইফতার পার্টি

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪, ১০:৩০ পিএম
কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাড. হেলাল উদ্দীনের উদ্যোগে ইফতার পার্টি

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক অ্যাড.হেলাল উদ্দিনের উদ্যোগে ইফতার পার্টি আয়োজন করা হয়েছে।

বিকেলে উপজেলার ইসলামপুর ড.জালাল আলমগীর পাঠাগারে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় অ্যাড হেলাল উদ্দিন দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের ইফতার মাহফিলে উপজেলার সকল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক উপস্থিত হয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রিয় ও তৃনমূলের নেতাই হবে উপজেলা চেয়ারম্যান। আমাকে করেন বা অন্য কাউকে করেন। আমাকে যদি আপনারা ভালো মনে করেন তাহলে আমাকে সমর্থন করবেন। আমি মনে করি কচুয়ার অভিভাবক স্থানীয় সাংসদ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড.সেলিম মাহমুদ তৃনমূল আওয়ামী লীগের নেতাদের মতামত মূল্যায়ন করবেন সে বিশ্বাস ও আস্থা তাঁর প্রতি আমার আছে। নেতা আমাকে এতো যে বেশি ভালোবাসে তা আমি কখনো ভাবতে পারেনি। আমাদের নেতা স্মার্ট নেতা,চেয়ারম্যান পদে স্মার্ট প্রার্থী তাঁর পছন্দ। আমার বিশ্বাস নেতার পছন্দের প্রার্থী আমি।

Model Hospital

ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ¦ জাবের মিয়া,পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, আশ্রাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল মাওলা হেলাল মুন্সী সাচার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.মিন্নত আলী তালুকদার, পাথৈর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম,বিতারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সোহাগ খান,পালাখাল মডেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী আহাদ,সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক, গোহট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমিন উদ্দিন, কাদলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটন মুন্সী,সাধারন সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মেম্বার,কচুয়া উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী জহিরুল হক টগর,আশ্রাফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এসময় উপজেলা,ইউনিয়ন,ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শেষে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শ্যামলী খান দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’