শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে মেসার্স হারুন টাইলস্ এন্ড স্যানেটারি’র উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১, ৩:৪৪ পিএম
হাজীগঞ্জে মেসার্স হারুন টাইলস্ এন্ড স্যানেটারি’র উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি : হাজীগঞ্জে মেসার্স হারুন টাইলস্ এন্ড স্যানেটারির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ আছর ফিতা কেটে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন হলুদ পট্টির উত্তর পাশে (মেইন রোড) এই টাইলস ও স্যানেটারি দোকানের উদ্বোধন করেন, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ও হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ¦ আসফাকুল আলম চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

এর আগে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সহকারী ইমাম মুফতি শেখ মো. এনামুল হক নাসিরাবাদী ও মিলাদ পরিচালনা করেন, হাফেজ শাহ্ মো. এমরান হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন, ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য (ওয়ার্ড কমিশনার) মহিউদ্দিন মাইনু মিয়াজী।

মেসার্স হারুন টাইলস্ এন্ড স্যানেটারির স্বত্ত্বাধীকারী ও সাংবাদিক মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ’র উপস্থাপনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম মিয়াজী, মো. সফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী, মো. আবুল বাশার, মো. সফিকুল ইসলাম মিয়াজী, মো.শরীফুল ইসলাম পাটওয়ারী, মো. আরিফ পাটওয়ারী, সোহানুর রহমান সুমন, তাফাজ্জল হোসেন তফু, মো. ইমান হোসেন, মমিন কাজী ও শাহিন মজুমদার অন্যান্য ব্যবসায়ীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, হাজীগঞ্জ প্রেসকাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান টুটুল, প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিফাত, সদস্য এস.এম চিশতী, মনিরুজ্জামান বাবলু, রেজাউল করিম নয়নসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

Model Hospital

মেসার্স হারুন টাইলস্ এন্ড স্যানেটারির পরিচালক মো. রাসেদ ভুঁইয়া ও মো. রাছেল ভুঁইয়ার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মো. আনোয়ার হোসেন আনু, মো. আবুল বাসার (বাদশা), জসিম মোল্লা, মো. সুমন রানা, মো. লিটন ভুইয়া, স্বপন, সাইফুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, মো. মারুফ হোসেন, সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ, বাজারের ব্যবসায়ী, টাইলস্ ও স্যানেটারী মেস্তুরিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মেসার্স হারুন টাইলস্ এন্ড স্যানেটারিতে আরএকে, ফ্রেশ সিরামিক্স, মীর, সানপাওয়ার, এক্স আলেকজান্ডার, এস মনিকা, পন্ডি, ইউরো, কুম্পোসহ সকল প্রকার টাইলস, জিআই পাইপ, গাজী পাইপ, গাজী পাম্প ও গাজী ট্যাংকস, আরএফল পাইপ, আরএফএল পাম্প, ন্যাশনাল পলিমার পাইপ, পেডরোলো পাম্প, প্লাস্টিকের দরজা, টিউবওয়েল ও বেসিনসহ সকল প্রকার স্যানেটারী মালামাল সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’