শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৫ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ মে, ২০২৪, ৯:৪৮ পিএম
কচুয়ায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৫ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

তৃতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কচুয়ায় ১৫ প্রার্থী চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের (পুরুষ-মহিলা) মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন জেলা নির্বাচন অফিসের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়।

গত রবিবার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে এখন ১৫ প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬ প্রার্থী-বর্তমান চেয়ারম্যান ও কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: শাহজাহান শিশির (কাপ-পিরিজ) কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন (ঘোড়া), কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আইয়ুব আলী পাটওয়ারী (দোয়াত কলম),বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো: মাহবুব আলম (টেলিফোন), আওয়ামী লীগ নেতা ফয়েজ আহমেদ (আনাসর), কচুয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব অ্যাড. মো: মাঈন উদ্দিন (নাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

Model Hospital

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থী-কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আ: জব্বার বাহার (চশমা), কচুয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজালাল প্রধান জালাল (উড়জাহাজ) মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান (তালা) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ প্রার্থী-উপজেলা যুব লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পারভীন আক্তার (প্রজাপ্রতি), উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদক আমেনা আক্তার (কলস), চাঁদপুর জেলা কৃষক লীগের সদস্য জ্যোৎসনা আক্তার (ফুটবল), সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমা সহিদ (বৈদ্যুতিক পাখা), শ্যামলী খান (পদ্ম ফুল) ও কুলসুমা আক্তার (হাস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

উল্লেখ্য তৃতীয় ধাপে ২৯ মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কচুয়ায় ইভিএমএ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৫শত ২৫জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৫শত ৪৬জন।

মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৭হাজার ৯শত ৭৮জন। ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১১০টি কেন্দ্র ভোটাররা তাদের ভোটধিকার প্রয়োগ করবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’