শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ভেকু ও খাবার হোটেল মালিককে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪, ১০:২৮ পিএম
শাহরাস্তিতে ভেকু ও খাবার হোটেল মালিককে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড

শাহরাস্তিতে ভেকু দিয়ে মাটির টপসয়েল কেটে কৃষিজমি ধ্বংস এবং অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি অপরাধে ১ লক্ষ ১০ হাজার  টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার উপজেলা প্রশাসন রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির বেরকি গ্রামের ফসলি জমির মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, ঘুঘরচপ গ্রামের মো: ইকবাল হোসেন (৪০) বেরকি গ্রামে ফসলি জমিনের মাঠে ভেকু দিয়ে টপসয়েল কেটে কৃষিজমি ধ্বংস করে মাছের ঘের তৈরি করছিল।

বিষয়টি প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযুক্ত মোঃ ইকবাল হোসেনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর আওতায় ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ৩০দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

Model Hospital

একই দিন উপজেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসেবে পৌর শহরের শাহরাস্তি গেইট দোয়াভাঙ্গা বিসমিল্লাহ খাবার হোটেলে একটি অভিযান পরিচালনা করে।

ওই সময় হোটেলে খুবই অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি এবং হোটেল ও রেস্তোরা লাইসেন্স না থাকার অপরাধে হোটেলের স্বত্বাধিকারী মোঃ এহতেশামুল (৫৫)- কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর আওতায় ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

২ টি অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্ত ভেকু ও খাবার হোটেল মালিককে এ দন্ড প্রদান  করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইয়াসির আরাফাত।

এ কাজে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তি মডেল থানার সংশ্লিষ্ট অফিসার সহ সঙ্গীয় ফোর্স ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণমাধ্যমকে জানান, শাহরাস্তির ফসলি জমিনের টপসওয়েল রক্ষার্থে ও জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা স্বার্থে প্রতিটি হাটবাজারে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান প্রসঙ্গে জনগণ জানান, মানুষের ফসলি জমিন এবং জীবন ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকা উচিত।

এদিকে স্থানীয় জনগণ তথা ভোক্তা পর্যায়ে এই ধরনের অভিযানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’