শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

লেডি দেহলভী বালিকা বিদ্যালয়ে চর্যাপদ একাডেমির বই উপহার কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ৯:১৫ পিএম
লেডি দেহলভী বালিকা বিদ্যালয়ে চর্যাপদ একাডেমির বই উপহার কর্মসূচি

চাঁদপুরের লেডি দেহলভী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বই উপহার প্রদান করেছে প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। শনিবার ১৮ মে সকাল ১১টায় ফিতা কেটে বই উপহার কর্মসূচি উদ্বোধন করেন চাঁদপুরের মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইলিয়াস মিয়া।

তিনি বলেন, বই পাঠের মধ্য দিয়ে সমাজ আলোকিত হয়। অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বই পাঠের কোনো বিকল্প নেই।

চর্যাপদ একাডেমির সভাপতি নুরুন্নাহার মুন্নির সভাপতিত্বে ও মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ স্বপন সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি প্রতিষ্ঠার পর থেকে চর্যাপদ একাডেমি একটি সুন্দর উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সমাজকে আলোকিত করার সেই উদ্দেশ্য দেখে আমি মুগ্ধ হই। শুধু চাঁদপুর নয়, সারাদেশে এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম রয়েছে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিএ (সিবিএ) সভাপতি আক্তার হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল।

Model Hospital

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আয়শা আক্তার রুপা, নিয়ন্ত্রণ পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল্লা কাহাফ, সহযোগী পরিচালক জয়ন্তী ভৌমিক, উপপরিচালক জান্নাতুল ফেরদাউস সুপ্ত ও উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সায়েম।

এ সময় শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের হাতে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়া, উপন্যাস, ভ্রমণ ও অনুবাদ গ্রন্থসহ সৃজনশীল ও মননশীল বই উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন ফাতেমা আক্তার (১০ শ্রেণি), হুমায়রা আক্তার(৭ম শ্রেণি), সোহানা ইসলাম(৯ম শ্রেণি), অপূর্ণ দত্ত(৯ম শ্রেণি) ও মুনমুন আক্তার(১০ম শ্রেণি)।

বই উপহার কর্মসূচির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার জন্য বিগত ৫ বছরে দেশে-বিদেশে ১০ হাজারের অধিক পাঠকের হাতে বই তুলে দিয়েছে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি।

সভাপ্রধান নুরুন্নাহার মুন্নি বলেন, ডিভাইসের জগত থেকে মানুষকে বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় নিয়ে আমরা এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

এবারের কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিলো: রুখে দিতে মাদক, রুখে দিতে জঙ্গী; বই হোক বন্ধু, বই হোক সঙ্গী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’