শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি পৌরসভার বাজেট ঘোষণা 

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪, ৯:৩৯ পিএম
শাহরাস্তি পৌরসভার বাজেট ঘোষণা 
নতুন করারোপ ছাড়া চাঁদপুরের শাহরাস্তি ক-শ্রেণির পৌরসভার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের  ৬৩কোটি ৬৭ লাখ  ২২ হাজার ৮শ ২৪ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে  পৌর  মেয়রের কার্যালয়ে মেয়র  আলহাজ্ব  আব্দুল লতিফ এ বাজেট ঘোষণা করেন। তিনি বাজেট বক্তব্য বলেন, এবারের বাজেট পৌরবাসীর ওপর নতুন  করারোপ না করে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ ব্যবস্থা রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়।এছাড়া তার দুই মেয়াদকে শাহরাস্তি পৌরসভার উন্নয়নের স্বর্ণযুগ বলেন। সেজন্য তিনি যে মেগা প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছেন তা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এবারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের  যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে সর্বমোট রাজস্ব আয়  আয় ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি ৬৭ লাখ ২২ হাজার ৮ শ’ ২৪ টাকা, একই সঙ্গে ব্যয় ৬৩ কোটি ৫২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এতে উদ্বৃত্ত বাজেট ১৪ লাখ ৮৬ হাজার৮ শ’ ২৪ টাকা ধরা হয়েছে।
এছাড়া ভৌত অবকাঠামো,রাস্তাঘাট,  ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োনিষ্কাশন, ব্রিজ, জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ সুপ্রিয় পানি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন,  বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ বাজেটে  করেন। এছাড়া স্মরণকালের নভেল করোনাভাইরাসের  বিভিন্ন ভেরিয়েন্ট  , চিকুনগুনিয়া, আলফা, ডেলটাপ্লাস, ডেঙ্গুর মত মহামারীর, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ম্যালেরিয়া সংক্রমণ দমনে বাজেটে বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি অত্র পৌরসভায় উন্নয়নে যে মেগা প্রকল্পগুলি হাতে নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এবারের বাজেটে রাজস্ব আয় ১১ কোটি  ২ লক্ষ  ১৪ হাজার ৩শ’ ৩৭ টাকা এবং রাজস্ব ব্যয়ের খাত ১০ কোটি ৯৫ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। বাজেটে রাজস্ব খাতে উন্নয়ন আয় ৫১কোটি ২লক্ষ  ৭৮ হাজার ৪ শ ৮৭ টাকা, এতে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ৫১কোটি ২লক্ষ । সর্বমোট রাজস্ব বাজেট ১১ কোটি ৬৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩ শ, ৩৭  টাকা। মোট উন্নয়ন বাজেট ৫১ কোটি ৯৯লক্ষ  ২৮হাজার ৪শ ৮৭ টাকা। বাজেটে রাজস্ব হিসাব  আয় ১১ কোটি ৬৭ লক্ষ  ৯৪ হাজার ৩শ ৩৭, ব্যায় আয় ১১ কোটি ৬০ লক্ষ ৯৬ হাজার এতে উদ্বৃত্ত ৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা ধরা হয়েছে ।এছাড়া পানির রাজস্ব হিসাবে আয় ৬৫,৮০ হাজার,  ব্যয় ৬৫ লক্ষ৬ হাজার   উদ্বৃত্ত ৭৪ লাখ  টাকা।
মূলধন হিসেবে ৯৬  লক্ষ  ৫০ হাজার এটির ব্যয়  ৯৬ লাখ ৪০ হাজার উদ্বৃত্ত  ১০ হাজার টাকা ধরা হয়।
বাজেট অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন   শাহরাস্তি পৌরসভার প্রধান নির্বাহী   রোটা: তোফায়েল আহমেদ শেখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্যানেল মেয়র মোঃ শাহাবুদ্দিন,
উপ-সহকারী প্রকৌশলী  মো. হাসানুজ্জামান, পৌরসভার প্রধান সহকারী মো. নজরুল ইসলাম, হিসাব শাখা প্রদান বাবু মানিক লাল ঘোষ।
কাউন্সিলর আব্দুল কুদ্দুস, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, তুষার চৌধুরী রাসেল, বাবু প্রহল্লাদ দে,আবুল কাশেম,আজাদ হোসেন,শাহনেওয়াজ, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন,মিজানুর রহমান মোল্লা,সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর  রাবেয়া আক্তার, রাবেয়া বসরী বকুল, জাহানারা আক্তার পুতুল, শাহানা সুলতানা পান্না প্রমুখ।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণমাধ্যম কর্মী, পৌরসভার বিশিষ্ট নাগরিক, অত কার্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’