শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০২৪, ১২:৫২ এম
চাঁদপুরে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের চরম ভোগান্তিতে চাঁদপুরের হাজার হাজার মানুষ। – আটদিন বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা বন্ধ থাকায় প্রিপেইড মিটারের – টাকা রিচার্জ করতে না পারায় বিপাকে পড়েন গ্রাহকরা। মিটারের টাকা রিচার্জ করার জন্য তারা বিদ্যুৎ অফিসে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টাকা রিচার্জ করেন। আটদিনে প্রায় ১০ হাজার গ্রাহককে সেবা দিয়েছে বিক্রয় ও বিপণী বিভাগ চাঁদপুর।

জানা গেছে, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে দুষ্কৃতকারীরা যুক্ত হয়ে সারাদেশের সঙ্গে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে চাঁদপুর শহর জুড়ে। এ ঘটনায় সারাদেশের সঙ্গে চাঁদপুরেও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম বিপাকে পড়েন চাঁদপুরের প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকরা। অনেকের মিটারের টাকা শেষ হয়ে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে তারা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টাকা রিচার্জ করে নেন।

হোসেন নামে একজন গ্রাহক জানান, ‘আমরা প্রিপেইড মিটারের যন্ত্রণায় ভুগছি। সংযোগ নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় টাকা কেটে নিয়ে গেছে। ডিমান্ড চার্জসহ বিভিন্ন চার্জে অনেক টাকা নিয়ে গেছে। মিটারের টাকা দিতে গিয়ে বিভিন্ন সময় সমস্যায় পড়তে হয়। রিচার্জের জন্য বিদ্যুৎ অফিসে সকালে এসেছি। আমরা এ মিটার চাই না। পুরাতন মিটার চাই।’

আয়েশা নামে এক নারী জানান, ‘মিটারের টাকা শেষ হয়ে গেছে। ঘরে কারেন্ট নেই। বিকাশ কাজ করে না। বাধ্য হয়ে অফিসে এসেছেন। এসে দেখেন অনেক মানুষের ভিড়। লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা রিচার্জ করলাম। এত ভোগান্তি ভালো লাগে না। আমরা এ মিটার ব্যবহার করতে চাই না।’

Model Hospital

বিক্রয় ও বিপণী বিভাগ চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ভূইয়া বলেন, ‘প্রিপেইড মিটারের টাকা রিচার্জের জন্য প্রতিদিন সকাল থেকে শত শত মানুষ অফিসে আসছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে রিচার্জ করতে হচ্ছে। এতে করে মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো দ্রুত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’