শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৪, ৯:৪১ পিএম
হাজীগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

হাজীগঞ্জে সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নব-গঠিত কমিটির (২০২৪-২০২৬) নেতৃবৃন্দ দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জহিরুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিদায়ী সভাপতি কামরুজ্জামান টুটুল নবগঠিত কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিফাত ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরিফের হাতে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন।

এরপর সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন মাজিদ থেকে তেলওয়াত করেন কাজী ইউনুস ও গীতা থেকে পাঠ করেন সুজন দাস। সভায় সারাদেশে কোটা সংস্কারের দাবীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও হত্যা এবং হাজীগঞ্জে সংবাদকর্মী মোহাম্মদ উল্যাহ্ বুলবুলকে মারধর ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখমের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

এছাড়াও এসব ঘটনায় তদন্তপূর্বক জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং আগামি দিনে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি কামনা করা হয়। একই সময়ে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন, তাদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের সুস্থতাসহ দেশ ও জাতীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

দোয়া ও মোনাজাত করেন, সমিতির সহ-সভাপতি কাজী মো. হারুন অর রশিদ।

Model Hospital

এর আগে অনুষ্ঠিত সভায় সিনিয়র সহ-সভাপতি (অর্থ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন) মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি নবগঠিত কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসানের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিফাতের সভাপতিত্বে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমিতির এজেন্ডা অনুযায়ী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

একই সময়ে ২০২৪-২৬ সেশনের জন্য গঠিত তিনটি উপ-কমিটির দায়িত্ব পালনের আহবান জানানো হয়। কমিটিগুলো হল, অর্থ বিষয়ক অডিট কমিটি, নতুন সদস্য অর্ন্তভূক্তকরণ যাচাই-বাছাই কমিটি, ভ্রমন ও বিনোদন কমিটি। এর মধ্যে তিন সদস্য বিশিষ্ট অর্থ বিষয়ক অডিট কমিটির আহবায়ক হলেন, অধ্যাপক এস.এম চিশতী, সদস্য কাজী মো. হারুন অর রশিদ ও মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ।

তিন সদস্য বিশিষ্ট নতুন সদস্য অর্ন্তভূক্তকরণ যাচাই-বাছাই কমিটির আহবায়ক হলেন, এ.এস.এম কামরুজ্জামান টুটুল, সদস্য মো. মেহেদী হাসান ও মো. জাহিদ হাসান। তিন সদস্য বিশিষ্ট ভ্রমন ও বিনোদন কমিটির আহবায়ক হলেন, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সদস্য পাপ্পু মাহমুদ ও রোটা. জাহাঙ্গীর হোসেন।

একই সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংবাদ সংগ্রহকালীন সময়ে বা দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তাসহ যে কোনো সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পদাধিকার বলে কমিটির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম সিফাত, সদস্য সচিব খন্দকার আরিফ, সদস্য কামরুজ্জামান টুটুল, মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ ও রিয়াজ শাওনকে দায়িত্ব পালনের আহবান জানানো হয়।

এসময় সমিতির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জয়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক পাপ্পু মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক এম.আলী মুজিব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. জহির হোসেন, কার্যকরি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক এস.এম চিশতী, খালেকুজ্জামান শামীম, কাজী মোরশেদ আলম, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সমিতির সদস্য শাখাওয়াত হোসেন শামীম, অমর দাস, কাজী ইউনুস, মজিবুর রহমান রনি, হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ উল্যাহ বুলবুল, মোশারফ হোসেন, নুর মোহাম্মদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’