বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

জীবনি ও যত অর্জন

এক নজরে দেশের অভিভাবক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৪, ১০:১৬ পিএম
এক নজরে দেশের অভিভাবক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। চট্টগ্রামের জোবরা গ্রাম থেকে এখন দেশের অভিভাবক তিনি।

ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক ও দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প সারা বিশ্বের মডেল। তার সামাজিক ব্যবসা ধারণাটি বহির্বিশ্বে অনুকরণীয়। ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবার হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা
মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর কাপ্তাই সড়কের বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার বাবা হাজী দুলা মিয়া সওদাগর ছিলেন একজন জহুরি। মা সুফিয়া খাতুন। ১৯৪৪ সালে গ্রাম থেকে মা-বাবার সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন।

Model Hospital

শিক্ষা জীবন
লামাবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় মুহাম্মদ ইউনূস মেধা তালিকায় ১৬তম স্থান অধিকার করেন এবং চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। এরপর ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন।

পড়াশোনা শেষে তিনি ব্যুরো অব ইকোনমিক্সে যোগ দেন গবেষণা সহকারী হিসেবে। পরবর্তীসময়ে ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি লাভ করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন।

১৯৭২ সালে দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এ পদে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই ১৯৭৬ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন ও পুরস্কার
গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প দারিদ্র্য বিমোচনে কৃতকর্মের জন্য ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল জয় করেন ড. ইউনূস। তিনি ১৯৭৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিকসহ প্রায় ১৪৫টি পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ পান। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম এবং ২০১০ সালে কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল পান। ২০২০ সালে তিনি ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি থেকে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

সবশেষ আজারবাইজানের বাকুতে ২০২৪ সালের ১৪-১৬ মার্চ একাদশ বিশ্ব বাকু ফোরামে তাকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ‘দ্য ট্রি অব পিস’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

জীবন সংগ্রামে ড. ইউনূস
দরিদ্রতার বিরুদ্ধে সংগ্রামটা শুরু ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত দুর্ভিক্ষের সময়। সেই সময়ে তিনি গবেষণার লক্ষ্যে গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রকল্প চালু করেন। ১৯৭৪ সালে মুহাম্মদ ইউনূস তেভাগা খামার প্রতিষ্ঠা করেন, যা সরকার প্যাকেজ প্রোগ্রামের আওতায় অধিগ্রহণ করে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে উদ্ভাবকদের সহায়তার জন্য ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণা ‘ইনফো লেডি সোশ্যাল এন্টারপ্রেনারশিপ’ প্রোগ্রামের মতো কর্মসূচিকে অনুপ্রাণিত করে।

যেভাবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও নোবেল জয়
ড. ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থাকা অবস্থায় বিভাগে কাজের পাশাপাশি আশপাশের গ্রামে ঘুরতেন। জোবরা ও সংলগ্ন গ্রামগুলোতে শুরু করেছিলেন একটি মাঠ গবেষণা, যেখানে তিনি যাচাই করতে চেয়েছিলেন সমাজের একেবারে নিচুতলার মানুষের মধ্যে ব্যাংকঋণ সরবরাহের সম্ভাব্যতা। সেখানে শুরুতে তেভাগা পদ্ধতি কৃষকদের খামার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমের কার্যক্রম শুরু করেন অধ্যাপক ইউনূস। যার নাম ছিল নবযুগ তেভাগা খামার। জমি যার সে ফসলের তিন ভাগের এক ভাগ পাবে। আর যে বীজ দেবে সার দেবে সে পাবে এক ভাগ। আর চাষ করবে, পানি দেবে সে পাবে এক ভাগ।

পরে গ্রামের অবহেলিত নারী ও পুরুষদের নিয়ে একটা সমিতি শুরু করেন। সেই সমিতিতে সঞ্চয় করতো সবাই। এই কৃষকদের খামার থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। পরবর্তীতে ‘ক্ষুদ্রঋণ’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা নিয়ে বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম হয় গ্রামীণ ব্যাংকের। এরপর অধ্যাপক ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের এ কার্যক্রম বিস্তৃতি লাভ করলে ২০০৬ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন অধ্যাপক ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এ পুরস্কার লাভ করেন।

আলোচিত ‘সামাজিক ব্যবসা’
ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসা বা Social Business ধারণাটি শুরু হয় সেই জোবরা গ্রাম থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থাকাকালীন তার তেভাগা পদ্ধতিতে চাষাবাদ এখন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সামাজিক ব্যবসা হিসেবে পরিচিত। সামাজিক ব্যবসার এ ধারণাটি পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং সে লক্ষ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্ভীক ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তার জন্মদিন ২৮ জুন ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর সামাজিক ব্যবসা দিবস বা Social Business Day হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিনটি পালন করার সার্বিক দায়িত্বে আছে ইউনূস সেন্টার।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ড. ইউনূস
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

ড. ইউনূসের আলোচিত গ্রন্থ
ব্যাংকার টু দ্য পুওর: মাইক্রো ল্যান্ডিং অ্যান্ড দ্য ব্যাটল এগেইনস্ট ওয়ার্ল্ড প্রোভার্টি।
ক্রিয়েটুং এ ওয়ার্ল্ড উইদাউট প্রোভার্টি: সোশ্যাল বিজনেস অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ক্যাপিটালিজম।

সূত্র : জাগো ‍নিউজ

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital