শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে নৈরাজ্য দখলদার সন্ত্রাস প্রতিরোধে বিএনপির মতবিনিময় সভায়

দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি আমরা সকলে মিলে তা রক্ষা করতে হবে : এম এ হান্নান

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০২৪, ৯:৩১ পিএম
দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি আমরা সকলে মিলে তা রক্ষা করতে হবে : এম এ হান্নান
বর্তমান দেশের পরিস্থিতিতে নৈরাজ্য দখলদার সন্ত্রাস প্রতিরোধে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

৯ আগষ্ট শুক্রবার বিকেলে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের আরাফাত হোটেলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শরীফ মোহাম্মদ ইউনুসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ এম এ হান্নান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর কঠিন সময় পার করছেন। এসময় মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নিজের ঘরে থাকতে পারেন নাই। ঠিক মতো রাস্তায় হাঁটতে পারেননি। আমি জানি আপনাদের অনেক কষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। এই হামলা জেল জুলুম নির্যাতনের প্রতিশোধ নেয়ার সময় এখন না। আপনারা ধৈর্য ধরেন। আমাদের দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সকল ধরনের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে। আপনার নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচারী শাসক সরকার পতনের পর চাঁদপুর জেলার সভাপতি ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেবের নির্দেশ অমান্য করে যারা বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে ও সরকারি স্থাপনায় হামলা করেছে তা ঠিক করেনি। আগামীকাল আমারা সকলে মিলে সেই সকল ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের বাড়িতে গিয়ে তাদের শান্তনা দিব। যারা হামলা করেছেন তারা  আগামী কালের মধ্যে আমাদের কাছে এসে স্বেচ্ছায় দোষ শিকার না করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি আমরা সকলে মিলে তা রক্ষা করতে হবে
এসময় বক্তব্য রাখেন,  চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মজিবুর রহমান দুলাল, আবু সালেহ মোঃ খরশু মোল্লা, ডাঃ একে আজাদ, সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, মফিজ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল খালেক গাজী,  উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ,পৌর বিএনপির আহবায়ক আমানত গাজী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হোসেন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ জামাল হোসেন, পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের সভাপতি ইমাম হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক শাওন চৌধুরী।
এসময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে  আঘাত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’