শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে কথিত সাংবাদিক কামরুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে কথিত সাংবাদিক কামরুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর এলাকায় এক সাংবাদিক নামধারীর নামে চাঁদাবাজির ব্যাপক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। জানা যায় তিনি আগে ঢাকায় ছিলেন।

গত এক বছর আগে এলাকায় এসে সাংবাদিক নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্নজন থেকে চাঁদাবাজি করছেন। এই নিয়ে এলাকায় তার বিরুদ্ধে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি গত এক বছর নিজেকে সাংবাদিক ও আওয়ামীলীগ পরিচয় দিলেও গত পাঁচ আগস্ট থেকে এখন আবার বিএনপি সেজে গেছেন বলে এলাকার অনেকে জানান।

সর্বশেষ তিনি গত বৃহস্পতিবার এলাকার সোনামিয়া কবিরাজ থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন।
সোনামিয়া কবিরাজ এত টাকা কোথায় থেকে দিবেন তার চিন্তায় ঐদিন সন্ধ্যায় তিনি হার্ট অ্যাটাক করে বসেন। এবং বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ
করেছেন সোনামিয়া কবিরাজের ছেলে কাদির।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে অভিযোগ আসলে কথিত সাংবাদিক কামরুল ইসলাম রনির বিষয়ে ও তার চাঁদাবাজির বিষয়ে কতটুকু সত্য তা জানতে উপজেলার গাজীপুর এলাকায় যান ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিক।

Model Hospital

এ সময় গাজীপুর এলাকায় গেলে কামরুল ইসলাম ও তার সহপাঠীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলে কিছু বলতে চান না। তবে এলাকায় তাদের চাঁদাবাজির ব্যাপক গুঞ্জন শোনা গেছে। থানায় অভিযোগকারী কাদিরের বাড়িতে গেলে সেখানে চাঁদাবাজদের বিষয়ে কথা বলার জন্য অনেকে এগিয়ে আসেন। এসময় কাদির বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ কামরুল তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল্লাহ এবং বিএনপি নেতা বিল্লাল সহ আমাদের ঘরে আসে। এবং আমার বৃদ্ধ বাবা সোনা মিয়া কবিরাজ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এবং ঐদিন সন্ধ্যার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা, বাকি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা
কিস্তির মত দিতে বলে। এ সময় আমি ও আমাদের ঘরের অন্যান্যরা তাদের এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং বিভিন্ন হুমকী-ধমকী দেন। পরে আমার বাবা সারাদিন এসবের টেনশনে রাতে স্টক করে বসেন। পরে বাবাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিলে সেখানের ডাক্তারেরা বাবাকে সাথে সাথেই ঢাকা মেডিকেল হসপিটালে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে আমার বাবা ঢাকা মেডিকেল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

অন্যদিকে আইরিন বেগম, পিঞ্জিরা বেগম, আছিয়া বেগম নামের তিন জনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, কামরুল, শহিদুল্লাহ, বিল্লাল এরা এলাকায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করতেছে। সর্বশেষ আমার বাবার কাছে তারা ৫ লক্ষ টাকা চায়। আমার বাবা ওই টাকার চিন্তায় স্টক করে বসেন, বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন, এই তিন জনের চাঁদাবাজির কবল থেকে আমাদের রক্ষার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

এলাকার সাবেক মেম্বার মাহবুব বলেন, কামরুল আসলেই সাংবাদিক না, তিনি সাংবাদিক দাবী করে। তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের খারাপ ওকারেন্স করে আসছে। ইতিপূর্বে তিনি কয়েকবার এলাকার মানুষের তোপের মুখে পড়েছেন এবং জেলও খেটেছেন। চাঁদাবাজির পাশাপাশি সে মাদকের সাথেও যুক্ত। আগে শুনেছি তিনি আওয়ামীলীগ ছিলেন, কিন্তু গত পাঁচই আগস্ট এর পরে এখন আবার তিনি বিএনপি হয়ে গেছেন বলে দাবি করছেন। সোনামিয়া কবিরাজের কাছে তারা তিনজনে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছেন বলে শুনেছি। এসময় উৎসক জনতা এই চাঁদাবাজদের উপযুক্ত বিচার চান বলে স্লোগান দেন।

অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক কামরুলের সাথে যোগাযোগের অনেক চেষ্টার পরও তাকে পাওয়া যায়নি বলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুন পাঠান বলেন, ফরিদগঞ্জ
প্রেসক্লাবের অধীনস্থ যেসব সাংবাদিক আছেন, আমার বিশ্বাস এরা কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নয়। ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রত্যেক সাংবাদিক তাদের নিজ নিজ কর্মব্যস্ততা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কোন চাঁদাবাজির সাথে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্যরা জড়িত নয়। তিনি বলেন, উল্লেখিত নামধারী সাংবাদিক কামরুল ইসলাম রনি ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোন সদস্য নন।

প্রশাসনিক ভাবে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানা। ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ বলেন- অভিযুক্ত কামরুলের সাথে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের নুন্যতম সম্পর্ক নেই। তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা যদি সত্য হয় তাহলে বলবো সে জঘন্য কাজ করেছে।

প্রশাসনকে বলবো তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। সেই সাথে যারা তাকে সহযোগিতা করছে তাদেরকে সর্তক থাকার আহ্বান করছি। আমার বিশ^াস আমাদের ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোনো সদস্য এমন কাজের সাথে জড়িত নয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’