শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রিকেটার

সাদ্দাম হোসেন মিঠু’র মাধ্যমে উজ্জ্বল হচ্ছে শাহরাস্তির ক্রীড়াঙ্গন

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:০৯ পিএম
সাদ্দাম হোসেন মিঠু’র মাধ্যমে উজ্জ্বল হচ্ছে শাহরাস্তির ক্রীড়াঙ্গন
“খেলার মাঠের জন্য সত্যিকারের শক্তি এবং সাহস প্রয়োজন।” এমন স্লোগানকে অন্তরে ধারণ করে বাংলাদেশের মধ্যে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলাকে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করার দুঃসাহস নিয়ে যে ছেলেটি এগিয়ে এসেছে তার নাম মোঃ সাদ্দাম হোসেন মিঠু। ছোটবেলা থেকে খেলা পাগল ছেলেটি এখন শাহরাস্তির আদর্শ। ক্রিকেটীয় জ্ঞানকে অন্তরে লালনের পাশাপাশি সামাজিক কাজেও পিছিয়ে নেই তিনি। বরং সমাজের ক্রান্তিকালীন সময়ে নিজের পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে অসহায় ও নিরীহ মানুষের পাশে আস্থা নিয়ে কাজ করেন তিনি।
ব্যবসায়ী মোঃ বিল্লাল হোসেনের চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ক্রীড়া সংগঠক সাদ্দাম ২০১০ সাল থেকে বয়স ভিত্তিক দলে খেলার মাধ্যমে ক্রিকেট খেলার সাথে সম্পৃক্ত হয়। জেলার সব ধরনের টুর্নামেন্ট এবং ঢাকার নামকরা কয়েকটি ক্লাব যথাক্রমে কলাবাগান স্পোর্টিং ক্লাব, শেখ জামাল স্পোর্টিং ক্লাব, উদয়ন স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছেন।
ক্রীড়া সংগঠক সাদ্দাম হোসেন মিঠু শুধু ক্রীড়া জগতে নয়, বরং সমাজের ক্রান্তিকালীন সময়ে দায়িত্ব নিয়ে সমাজের পাশে দাঁড়ানো নিরেট এক সমাজকর্মীও বটে। চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ২০২৪ এর বন্যায় তার প্রতিষ্ঠিত শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমির পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ এর অধিক পরিবারের পাশে (ত্রাণ) উপহার সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া ঢাকাসহ পুরো দেশ হতে আগত ক্রীড়া সংগঠকদের নিয়ে তিনি নিজে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘরে ঘরে গিয়ে (ত্রাণ) উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।
একজন প্রথম বিভাগ ক্রিকেটার হিসেবে ছোটবেলা থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেন শাহরাস্তি উপজেলা থেকে জাতীয় মানের ক্রিকেটার বের হবে, আর সেই লক্ষ্যে শাহরাস্তি উপজেলাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে তার নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমি থেকে ট্যালেন্ট কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৫০০ অধিক ক্রিকেটার এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে, এখান থেকে সেরা ৪০ জনকে বাছাই করা হয়। এই একাডেমিতে এমন কিছু ট্যালেন্ট খেলোয়াড় আছে যারা আগামী দিনে শাহরাস্তিকে সারা বাংলাদেশ না শুধু সারা বিশ্বে তুলে ধরবে, এমনটাই বিশ্বাস তার।
শাহরাস্তি উপজেলার নাম সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে ইতিমধ্যে ব্যয়বহুল একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ (সিজন ১)। যা সারা বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমির আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার মোঃ আশরাফুল ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং আরো সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
১ম সিজন সফল হওয়ার পর সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় টেপ টেনিস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হবে শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ (সিজন ২)। যেখানে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার এবং ঢাকা থেকে আগত বিভিন্ন ক্লাব অফিসিয়াল কর্মকর্তা। তাছাড়া এবারের লাইভ সম্প্রচার থাকতেছে আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সারা বাংলাদেশ থেকে এবার ৩২ টি দল অংশগ্রহণ করবে এই সিজনে।
সাদ্দান হোসেন মিঠু বলেন, শাহরাস্তি ক্ষুদ্র একটি উপজেলা, তবে এখানকার মানুষের হৃদয় অনেক বড়। আমার সকল কাজের অনুপ্রেরণা এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষরাই। উপজেলাকে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করানোর জন্য আমি গতবছর থেকে শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লীগ আয়োজন করেছি। গতবারের মতো এবারের আয়োজনে আরও ভিন্ন কিছু নিয়ে চমক থাকবে। পাশাপাশি সামাজিক কাজেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে সকলের ভালোবাসায় সিক্ত থাকতে চাই। শাহরাস্তিসহ পুরো চাঁদপুরবাসীর কাছে আমি সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করি৷

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’