শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন মোস্তফা মজুমদার সুমন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:৩৩ পিএম
হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন মোস্তফা মজুমদার সুমন

 চাঁদপুর জেলার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন,ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, হাজীগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা ও হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মোস্তফা মজুমদার সুমন।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টায় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নির্বাচনে উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মোজাম্মেল হোসেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ মোস্তফা মজুমদার সুমন এর নাম নির্বাচিত হিসেবে ঘোষণা করেন।

মোস্তফা মজুমদার সুমন হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও ভূমি দাতা হাজীগঞ্জ পৌর ১০ নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া (মনিনাগ) গ্রামের মজুমদার বাড়ির মরহুম আবুল খায়ের মজুমদারের বড় ছেলে।

মোহাম্মদ মোস্তফা মজুমদার সুমন ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এস এস (মাস্টার্স সোশ্যাল সাইন্স) সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

তিনি বর্তমানে হাজীগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক, হাজীগঞ্জ উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ এর উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, হাজীগঞ্জ উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক, হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক, চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাবেক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মোহাম্মদ মোস্তফা মজুমদার সুমন নতুন দায়িত্ব যেন ন্যায় নিষ্ঠা ভাবে পরিচালনা করতে পারেন সে জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সে সাথে তিনি হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জি. মমিনুল হক ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এছাড়া মোহাম্মদ মোস্তফা মজুমদার সুমন অত্রকলেজের শিক্ষকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় কালে বলেন, অত্র কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের পড়ালেখার মানোন্নয়নে কাজ করবো এবং কলেজের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে কাজ করবো। এক্ষেত্রে সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগীতা কামনা করছি।

এসময় নির্বাচনে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, এ কে এম সেলিম মজুমদার,কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ মাহমুদ আহমেদ মিঠু মজুমদার,সাবেক ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আজিম মজুমদার,কলেজের সহকারী অধ্যাপক আনম মফিজুর রহমান,সহকারী অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান,সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান সরকার ও আবুল কালাম আজাদসহ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষিকা গন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও মজুমদার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নসু মজুমদার, মঞ্জু মজুমদার, মহিউদ্দিন মজুমদার, একরামুল করিম সুজন মজুমদার, এনামুল হক মজুমদার, ফজলুল হক মজুমদার, টিটু মজুমদার, নিশান মজুমদার, উজ্জল মজুমদার, আকতার মজুমদার, রাব্বি মজুমদার, জোবায়ের মজুমদার, মারুফ মজুমদার, ফরহাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’