শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

চাঁদপুরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা চাই : এসপি আব্দুর রকিব

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৮:০৭ পিএম
চাঁদপুরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা চাই : এসপি আব্দুর রকিব

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিবের সাথে মতবিনিময় করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিবের সাথে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুলিশ সুপার সম্মেলন কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

জেলা নেতৃবৃন্দ চাঁদপুরের বর্তমান পরিস্থিতি, ইসলামী আন্দোলনের কর্মকান্ড এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মানব কল্যাণে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

জেলা সভাপতি শেখ মোঃ জয়নাল আবেদীন পুলিশ সুপারকে লক্ষ্য করে বলেন ৫ অগাস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ এবং দেশের সাধারণ মানুষের সাথে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের উপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। নচেৎ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়লে দেশ বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। কারণ আমরা ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করছি স্বৈরশাসনের আমলে যেভাবে একই দলের বিভিন্ন গ্রুপের সাথে দখলদারিত্ব চাঁদাবাজি নিয়ে মারামারি হানাহানি হতো ঠিক একই দৃশ্য আমাদেরকে পুনরায় দেখতে হচ্ছে। তাই পুলিশকে আরো সক্রিয় এবং শক্ত ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

শহীদদের পবিত্র রক্তের বিনিময়ে যদি আমরা দেশকে পবিত্র করতে না পারি তাহলে আমাদের জন্য আরও দুর্ভাগ্যজনক অবস্থা অপেক্ষা করছে বলে আমি মনে করি। তাই আপনারা যদি নিজেদেরকে দুর্বল মনে করেন তাহলে যাদের কাছে দেশ,দেশের সম্পদ এবং দেশের মানুষ নিরাপদ প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা নিন তারপরও আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক পরিস্থিতি আনার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করুন। মাদক ব্যবসায়ীরা আবার পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যানজট চরম সীমা পাড় করছে।

Model Hospital

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব তার বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুরে যেহেতু নতুন এসেছি, বিগত দিনের অভিজ্ঞতা আপনাদের কাছ থেকেই আমাকে নিতে হবে অভিজ্ঞতা নিয়ে ইনশাআল্লাহ যেখানে যা করণীয় আমার সাধ্যানুযায়ী পুলিশ বাহিনীকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব মানুষের মাঝে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্রে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা আমি কামনা করছি।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্য মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সহ সভাপতি মাওলানা গাজী মোহাম্মদ হানিফ, জেলা সেক্রেটারি কেএম ইয়াসিন রাশেদ সানি, সাবেক জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল আমিন, বামুক জেলা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহজাহান মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ বেলাল ,ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি মোহাম্মদ রাকিব হোসেন প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’