শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও যুব সমাবেশ

যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সব অপশক্তির মোকাবিলা করতে হবে : মমিনুল হক এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সব অপশক্তির মোকাবিলা করতে হবে : মমিনুল হক এমপি
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  শাহরাস্তিতে স্বরণীয়  বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও ঐতিহাসিক এক বিশাল যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে দোয়াভাঙ্গা গেটসংলগ্ন আল-আমিন শপিং কমপ্লেক্স চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।দুপুর থেকেই উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড থেকে যুবদলের নেতাকর্মীরা ক্যাপ-গেঞ্জি পরে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দলে দলে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি উদযাপন করা হয়। সমাবেশে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
শাহরাস্তি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. আলী আজগর মিয়াজীর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল ও সদস্যসচিব এহতেশামুল হক গনির যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন প্রকৌশলী  মমিনুল হক এমপি ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকের এই বিশাল যুব সমাবেশ যুবসমাজের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। যুবদল বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী সহযোগী সংগঠন। দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবদলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের শক্তি শুধু বড় সমাবেশে নয়, জনগণের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় সহযোগিতা করা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার মধ্যেও নিহিত। যুবদলকে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপশক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রেখে কাজ করতে হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক।
মানিকুর রহমান মানিক বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক। তিনি কাছ থেকে দেখেছেন, কীভাবে মমিনুল হক দলের নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ান এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে শাহরাস্তির যুবদলের নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। তাদের ত্যাগ ও সাহসিকতা দলের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। আগামী দিনেও যুবদলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. আলী আজগর মিয়াজী বলেন, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনকে সফল ও প্রাণবন্ত করেছে। এ জন্য তিনি সব নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের অবদান স্মরণীয়। আগামী দিনেও যুবদলকে সুসংগঠিত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে সমাবেশ সফল করতে সহযোগিতাকারী বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ জানান।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ  রুপন পাটওয়ারী, শাহ মোহাম্মদ আলী,মোঃ জহিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সাবেক সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান বাবলু, সদস্যসচিব আলী আজগর মোল্লা, যুগ্ম আহ্বায়ক আদনান নোমান, শাহাবুদ্দিন ও সৈয়দ আহমেদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ ও সদস্যসচিব আজগর হোসেন মিয়াজী, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশে শাহরাস্তি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের যুবদলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

‘সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের রাস্তায় পেলে গ্রেপ্তার করা হবে’ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
‘সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের রাস্তায় পেলে গ্রেপ্তার করা হবে’ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি

‘সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেপেলেদের যদি রাস্তায় পাওয়ায় যায়, তাহলে তাদের ধরা হবে, গ্রেপ্তার করা হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ প্রধান আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী (ডিআইজি)।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে অবস্থিত শহীদ সুভাষ হলে আয়োজিত নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও সামাজিক অপরাধ দমন বিষয়ক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডিআইজি বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের উপরে আপনাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। যে সময়ে বই-খাতা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, তাদেরকে বিকেল বেলায় রাস্তায় প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা যায় এবং বিভিন্ন রকম অঙ্গভঙ্গিতে শিস মারতে দেখা যায়। এই ছেলে-মেয়েগুলো কার জন্য নষ্ট হচ্ছে, পারিবারিক শাসনটা কোথায়? এটা যদি থাকে তাহলে তো কিশোর গ্যাং তৈরি হয় না।’

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কিশোর গ্যাং এই দেশ থেকে নির্মূল করব। কিশোর গ্যাং বলতে কিছু থাকবে না। এটি পুরোপুরি নির্মূল করতে আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

Model Hospital

সমাবেশে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান ও জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার শহরটা ব্যতিক্রম। এখানে বহুমাত্রিক অপরাধ সংঘটিত হয়। জেলা পুলিশ সম্প্রতি অপরাধ দমনে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।