শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর প্রেসক্লাবে ১৪ বছর পর বিএনপি প্যানেলের জয়লাভ; সভাপতি মিলন সম্পাদক রিয়াদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২, ২:৫৭ পিএম
চাঁদপুর প্রেসক্লাবে ১৪ বছর পর বিএনপি প্যানেলের জয়লাভ; সভাপতি মিলন সম্পাদক রিয়াদ

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর প্রেসক্লাবে বিগত ১৪ বছর পর বিএনপি প্যানেল জয়লাভ করেছে। এর পূর্বে বিগত ২০০২ সালে জাতীয়তাবাদীদল বিএনপির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এডভোকেট ইকবাল-বিন-বাসার ও সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আহসানুজ্জামান মন্টু। তার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে ২টি কমিটি গঠন করে প্রেসক্লাবে তালা পড়ে।

পরে ২০০৮ সাল থেকে সমজোতার ভিত্তিতে চাঁদপুর প্রেসক্লাব কমিটি গঠন করে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচন করে চলছিল। এ বছর চাঁদপুর প্রেসক্লাবে নির্বাচন না করে ১৫ সদস্যের সমজোতা কমিটি ৩টি প্যানেলের মধ্যে নিজেদের ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে বিএনপির একমাত্র কঠিন মূখপাত্র আমার দেশ পত্রিকার (যে পত্রিকাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে)সাবেক চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি ও পৃষ্ঠপোষক গিয়াস উদ্দিন মিলনকে সভাপতি ও চাঁদপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে কলেজ সংসদে নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারী (১৯৯৫–২০০৮ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছিলেন) রিয়াদ ফেরদৌসকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করেন। প্রেসক্লাব কমিটির সদস্যরা ভারত সফরে থাকায় এ কমিটি ঘোষনায় বিলম্ব হয়।

আজ রোববার চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার অফিস থেকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০২২ সালের কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়ে মর্মে ই-মেইল পাঠিয়ে গনমাধ্যমে প্রচারের জন্য দেওয়া হয়েছে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি হলেন, গিয়াসউদ্দিন মিলন (সাবেক জেলা প্রতিনিধি আমার দেশ/দৈনিক মেঘনা বার্তা) ও সাধারণ সম্পাদক হলেন রিয়াদ ফেরদৌস (গাজী টেলিভিশন/সংবাদ প্রতিদিন)। কমিটি ঘোষণার পর নবাগত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

Model Hospital

নবগঠিত কমিটির অন্যরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি রহিম বাদশা (বাংলাভিশন/দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ), সহ-সভাপতি সোহেল রুশদী (বিজয় টিভি/দৈনিক চাঁদপুর খবর), লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর (দেশ টিভি/ভোরের কাগজ), এএইচএম আহসান উল্লাহ (দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-ইমরান শোভন (চ্যানেল টুয়েন্টিফোর/যায়যায়দিন), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল রুবেল (ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন), আলম পলাশ (প্রথম আলো), মাহবুবুর রহমান সুমন (দৈনিক ইলশেপাড়), সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ আলম রোকন (চ্যানেল আই), শাহাদাত হোসেন শান্ত (মানবকণ্ঠ), ইব্রাহিম রনি (ঢাকা ট্রিবিউন), এমএ লতিফ (আমাদের সময়), কোষাধ্যক্ষ ইয়াসিন ইকরাম (দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ), প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক কাদের পলাশ (যমুনা টেলিভিশন/দৈনিক শপথ), সাহিত্য, প্রকাশনা ও লাইব্রেরি সম্পাদক শওকত আলী (আলোকিত বাংলাদেশ), ক্রীড়া সম্পাদক ফারুক আহম্মদ (সময় টেলিভিশন/কালের কণ্ঠ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক একে আজাদ (দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ), সমাজকল্যাণ সম্পাদক শরীফ মোঃ আশ্রাফুল হক (সাপ্তাহিক আমাদের অঙ্গীকার), আপ্যায়ন ও বিনোদন সম্পাদক তালহা জুবায়ের (ডিবিসি নিউজ), তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক হাসান মাহমুদ (দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ)।

কার্যকরী কমিটির সদস্যরা হলেন- কাজী শাহাদাত (দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ), অধ্যক্ষ জালাল চৌধুরী (জনকণ্ঠ), গোলাম কিবরিয়া জীবন (ইত্তেফাক/বিটিভি), শহীদ পাটোয়ারী (দৈনিক চাঁদপুর বার্তা), বিএম হান্নান (ইনকিলাব), শরীফ চৌধুরী (আরটিভি), ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী (সমকাল/চাঁদপুর প্রতিদিন), আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী (দৈনিক মেঘনা বার্তা), মির্জা জাকির (যুগান্তর), মুনির চৌধুরী (দিনকাল), অ্যাডঃ শাহজাহান মিয়া (চাঁদপুর দিগন্ত), আব্দুর রহমান (দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ), জিএম শাহীন (দৈনিক মেঘনা বার্তা), ওমর পাটওয়ারী (দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ), রোকনুজ্জামান রোকন (দৈনিক অনুপমা/ দৈনিক চাঁদপুরজমিন), মোশারফ হোসেন লিটন (সাপ্তাহিক চাঁদপুর সকাল), সেলিম খান (দৈনিক চাঁদপুর বার্তা)।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’