রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ার ৩৯টি পূজা মণ্ডপে

রং তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গার রূপ-লাবণ্য ফুটিয়ে তোলার প্রস্তুতি সম্পন্ন

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৩২ পিএম
রং তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গার রূপ-লাবণ্য ফুটিয়ে তোলার প্রস্তুতি সম্পন্ন

কোয়া পোদ্দার বাড়ী দুর্গা প্রতিমার মাটির কাজ শেষে রঙ তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

বাঙ্গালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এ বছর উপজেলার ৩৯টি পূজা মণ্ডপের দেবী মায়ের ভক্তদের মাঝে অন্যান্য বছরের ন্যায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মহালয়ের মাধ্যমে দেবীদুর্গা পা রাখেন মর্ত্যলোকে। আর মাত্র ১দিন পর ৯অক্টোবর ষষ্ঠীতে হবে দেবীর বোধন, ১০ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১১ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১২ অক্টোবর
মহানবমী ও ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনব্যাপী শারদীয় দূর্গোৎসবের।

এ বছর দেবী দোলায় আগামন, ঘোটকে গমন করবেন।

পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার পৌরসভার ও ১২টি ইউনিয়নে ৩৯টি পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ৩৯টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন পূজা মন্ডপ হচ্ছে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কোয়া পোদ্দার বাড়ির সর্বজনীন দূর্গা মণ্ডপ। এই বছর এ মণ্ডপে ১৪৪ তম শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে যাচ্ছে।

পূজা মণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দেরা জানান, ৫ ই আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যূত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পরে হিন্দুদের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতি দেখা দেয়। এখন আতংকের মধ্যে দিনযাপন করছি। দেবীদুর্গা মা যদি কৃপা করে তাহলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারবো। অন্যান্য বছরের মতো আলোক সজ্জা, দৃষ্টিনন্দন গেইট, প্যান্ডেল বাদ দিয়ে সীমিত পরিসরে এই বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

Model Hospital

প্রতিমা শিল্পী কালা চাঁন গোস্বামীর বলেন, ভয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ মুহুর্তে এসে তারাহুড় করে কাজ করে রঙের ছোঁয়ায় প্রতিমাকে সাজিয়ে তুলা হচ্ছে। দেবীকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পারলেই কাজ করে নিজের মধ্যে শান্তি আসে।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলাল চৌধুরী জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। সকল পূজামণ্ডপে পুলিশ, আনসার নিয়োগের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল থাকবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপে বিশেষ নজরে রাখা হবে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আবদুল হালিম বলেন, উপজেলার ৩৯টি পূজা মণ্ডপে সুষ্ঠ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে যেকোন অপতৎপরতা রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সকলের সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর সর্বজনীন উৎসব করতে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।