রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, সাত দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৮ জন

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৫৪ পিএম
কচুয়ায় বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, সাত দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৮ জন

সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরের কচুয়ায় বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি মাসের শুরুতেই ১৮জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কবলিত এলাকা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লা থেকে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসছে মানুষ।

জ্বরের সঙ্গে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আহাদ হোসেন। কিছু দিন আগে ঢাকা বোনের বাসাতে মিরপুর যায় বেড়াতে। ২ দিন থাকার পর তার নিজ বাড়িতে আসেন। আসার পর তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কচুয়া হাসপাতালে পাঁচদিন ধরে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে আছেন তিনি।

দারাশাই তুলপাই এলাকার বাসিন্দা তাছলিমা আক্তারের মতো জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসা প্রায় শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী, বেশিরভাগ পুরুষ। কেউ ঢাকা থেকে, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী ও কেউ কুমিল্লা থেকে জ্বর নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসেন। সেখান থেকে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরছেন কর্মস্থলে।

Model Hospital

কড়ইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রবিউল ও মেহেদী হাসান। ঢাকা কর্মস্থল থেকে জ্বর নিয়ে বাড়ি ফেরেন। সেখান থেকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা শেষে তাদের দুই জনের ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের দেওয়া তথ্যমতে, আগস্ট মাসে ১৯ জন ও সেপ্টেম্বর মাসে ৩৬ জন চিকিৎসা নিলেও অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে ভর্তি হয় ১৮ জন রোগী। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সর্বমোট ৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্স মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. সোহেল রানা বলেন, জ্বরের সঙ্গে বমি, ডায়রিয়া, মাথা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও চলতি অক্টোবর মাসের জলাবদ্ধতার শিকার কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়ন সহ বেশকিছু গ্রাম। সেখানে পানি কমে যাওয়ার পর নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বাসিন্দারা।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউর রহমান মজুমদার বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ‘চলতি মাসের শুরুতে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়।

সোমবার ছয় জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’ চলতি মাসে প্রকোপ বেশি দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।