শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়া ভবনে চলছে কার্যক্রম

বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে জনবল সংকট, নেই নৌযান

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:৫৪ পিএম
বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে জনবল সংকট, নেই নৌযান
ভাড়া ভবনে নিরাপত্তাহীনতা এবং জনবল সংকট নিয়েই চলছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায় বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির থাকার কথা উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের বেলতলী অঞ্চলে কিন্তু নিজস্ব কোন ভবন না থাকায় নৌ পুলিশ ফাঁড়িটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে ষাটনল ইউনিয়নের কালীপুর বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ একটি মার্কেটের দোতালায়।
এখানে ২০১৯ সালে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হওয়ার পর প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সংস্থাটির নিজস্ব ঠিকানা হয়নি। প্রায় ছয় বছর ধরে ফাঁড়ির কার্যক্রম চলছে একটি পুরনো ভাড়া মার্কেটে। সেখানে নেই কোন নিরাপত্তা, নেই আসামী রাখার হাজতখানা। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই কার্য পরিচালনা করছেন নৌ পুলিশ ফাঁড়িটির কার্যক্রম।
পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের কারণে প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারছেন না ফাঁড়ির নৌ পুলিশের সদস্যরা। নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্পিডবোট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নৌপথের বিশাল এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনবল সংকটেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন নদীগুলো হলো– মেঘনা নদীর ষাটনল লঞ্চ ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলা, গজারিয়া উপজেলা, দাউদকান্দি উপজেলায় সীমানা পর্যন্ত এবং মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীর শ্রী রায়ের চর বাংলাবাজার থেকে কালীরবাজার, খাগুরিয়া, হাপানীয়া, বেলতলী, কালীপুর, লালপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার নৌপথের এই বিশাল এলাকা। বর্তমানে বেলতলী নৌপুলিশের দায়িত্বে রয়েছেন একজন পুলিশ পরিদর্শক, একজন উপপরিদর্শক, দু’জন সহকারী উপপরিদর্শকসহ ৫ জন সদস্য। এ জনবল নিয়েই নিয়মিত নৌপথে টহলের কাজ চলছে। নৌ পুলিশের সরকারি কোনো স্পিডবোট না থাকায় নদীতে অপরাধ দমন বেশ চ্যালেঞ্জিং।
বর্তমানে ইঞ্জিনচালিত একটি সেলো নৌকা নিয়ে নদীপথে টহলের কাজ চালানো হচ্ছে। নদীপথে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে নৌ পুলিশের অভিযানে গত ২ মাসে ৪টি টি মামলা ও ১৮জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এখান থেকে নিয়মিতই কয়েক প্রকারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাল্কহেড, কার্গো ও জাহাজ দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলন থেকে মালামাল সরবরাহ করে থাকেন।
সাম্প্রতি সময়ে বেলতলী অঞ্চলের মেঘনা নদীর মতলব-গজারীয়ার নৌ সীমানার তীরবর্তী অঞ্চলে  অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাবলা খালাসি নামে একজন নৌ ডাকাত নিহত হয়।
এই অঞ্চলে চাঁদপুর নৌ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নৌপুলিশের তৎপরতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে নৌপথে চলাচলকারী নৌযান পরিচালনাকারীরা বলছেন, এখনও নানা কৌশলে নদীতে চাঁদাবাজি চলছে ও রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। নৌপুলিশের সীমাবদ্ধতা দূর হলে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নৌ পুলিশ ফাঁড়ির স্থায়ী কার্যালয় তৈরির লক্ষ্যে বেলতলী লঞ্চ ঘাটের দক্ষিণ দিকে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের বাহিরে বদরপুর মৌজার বিএস দাগ নং ২০৭৬ এবং ২০৭৭ দাগে ৩৩ শতক জমি কেনা হয়েছে। সেখানে নৌপুলিশের একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে স্থাপনা নির্মাণের কাজ ওই সাইনবোর্ডেই থমকে আছে।
কালীপুর বাজারের ব্যাবসায়ী মো. দীল মিয়া দলু জানান, এখানে স্বল্প জনবল দিয়ে নৌপুলিশ ফাঁড়ির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা নৌপথে নিরাপত্তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তবে নদীতে চাঁদাবাজি নির্মূল করতে ফাঁড়িতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি।
বেলতলী নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. সফিকুল ইসলাম জানান, স্বল্প জনবল দিয়ে নিয়মিত নদীতে টহলের কাজ অব্যাহত রেখেছেন তারা। এখানে নৌপথের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্পিডবোট একান্ত প্রয়োজন। তাদের অভিযানের কারণেই মূলত নৌপথে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি কমেছে।
চাঁদপুরের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, আবাসন সমস্যার কারণে জনবল বাড়ানো যাচ্ছে না। নৌপথে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত একটি স্পিডবোট দেওয়ার বিষয়টি সদরদপ্তরে জানানো হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের বেলতলী বাজারে একটি ভাড়া বাড়িতে মাত্র ৪ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। পরবর্তীতে ঐ বছেরই ভবন সংকটের কারণে ফাঁড়ির কার্যক্রম নিয়ে আসা হয় ষাটনল ইউনিয়নের কালীপুর বাজারে একটি মার্কেটের দোতালায়। এখানেই প্রায় ৬ বছর ধরে চলছে নৌ পুলিশের কার্যক্রম।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital