বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে সম্পত্তির জন্য বাবার লা’শ দা’ফনে সন্তানদের বা’ধা : ২০ ঘন্টা পর দা’ফন

মো. মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪, ৯:৪৯ পিএম
চাঁদপুরে সম্পত্তির জন্য বাবার লা’শ দা’ফনে সন্তানদের বা’ধা : ২০ ঘন্টা পর দা’ফন
চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাটিতে বড় ছেলের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় বৃদ্ধ আব্দুল মালেক তালুকদারের লাশ দাফনে বাধা দিয়েছেন অন্য সন্তানরা। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে ইউনিয়নের সেনগাঁও তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্ততায় এদিন বাদ জোহর লাশ দাফন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল গনি তালুকদারের ছেলে আব্দুল মালেক তালুকদার তার ২ একর সম্পত্তির মধ্যে বড় ছেলে ওসমান তালুকদারের নামে প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পত্তি লিখে দেন। এই নিয়ে তার অন্য ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্ট্রোক করলে হাসপাতালে নেয়ার পথে সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হলে ছোট দুই ছেলে আব্দুস সোবহান ও মনির তালুকদার সহ তিন বোনেরা বাবার লাশ দাফনে বাধা দেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে আশপাশের মানুষজন ঐ বাড়িতে ভিড় জমায়। এক পর্যায়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এমএ ইউসুফ মিন্টু মিজি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
এই বাড়ির বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য কামাল আহমেদ তালুকদার বলেন, লাশ দাফন না করার বিষয়টি আমি শুনে তার বড় ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী ওসমান তালুকদারের সাথে কথা বলি। তিনি আমাকে মোবাইলে জানান, আমার নামে যে সম্পত্তি লিখে দেয়া হয়েছে ওখান থেকে ৫ শতাংশ ছাড়া বাকী সম্পত্তি আমি ফিরিয়ে দিবো। তবে লাশ দাফনে আপাতত কোন বাধা নেই। চারদিকে মাইকিং চলছে, বাদ জোহর লাশ দাফন করা হবে। এদিকে ওসমান তালুকদারের এক ভগ্নিপতি বলেন, আমি তাদেরকে অনেকবার বলেছি বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য। গত প্রায় ২ মাস আগে আমার শাশুড়ী মারা যাওয়ার পরেও বলেছিলাম। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য,  কিন্তু কেউ কোন কর্নপাত করেনি।
মৃত আব্দুল মালেক তালুকদারের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে বলেন, আমার বাবা আমাদের বড় ভাইয়ের নামে এককভাবে ৯০ শতাংশ সম্পত্তি লিখে দিয়েছে। জীবিত থাকা অবস্থায় আমাদের বাবা ও আমার বড় ভাইকে অনেকবার বলার পরেও তারা জবাবে বলেন, বাবা মারা যাবার পরে এ বিষয়ে যা করার করবে। আমাদের বাবাকে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার ভাই এমনটা করেছে। তারা আরো বলেন, আমাদের বাবাকে ডাক্তার দেখানোর নাম করে চাঁদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে ভুল বুঝিয়ে ৯০শতক জমি আমাদের বড় ভাই তার নামে লিখে নেন। বাবা জীবিত থাকতে অনেকবার তাকে বললেও তিনি কর্ণপাত না করে গোপনে ৩দিন আগে বিদেশে চলে যান। গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে বাবার সম্পত্তি সকল ভাইবোনদের সমান হারে বন্টন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। আমরা সকলের সিদ্ধান্তে বাদ জোহর জানাযা শেষে বাবার লাশ দাফন করি।
প্রবাসী ওসমান তালুকদারের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, আমার শশুর গত ২০ বছর যাবত আমাদের এখানেই থেকেছেন। তাঁর দেখাশোনা ও চিকিৎসা খরচ আমরাই একা বহন করেছি। ওনার কোন ছেলে মেয়ে কোনদিন খোঁজখবর নেয় না। আমার শশুর অন্য ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে সেবাযত্ন ও খোঁজ খবর না পেয়ে আমার স্বামীকে স্বেচ্ছায় এই সম্পত্তি লিখে দিয়ে যান। এমনকি বুধবার সন্ধ্যায় তিনি স্ট্রোক করলে আমি সাথে সাথে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। তিনি আরো বলেন, আমার শশুরের দুই ছেলের পেছনে বিদেশ পাঠানো সহ বিভিন্ন কারনে প্রায় ২০-২৫ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। এর পরেও তারা এমনটা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী গত ৫-৬ দিন হলো সৌদি আরব গিয়েছে। ওখানে গিয়েও একটি ঝামেলায় পড়তে হয়েছে তাকে। তিন সন্তান নিয়ে অসহায়ের মত পড়ে আছি। এরমধ্যে আমার দেবররা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন। আমি নাকি সম্পত্তি লিখে নেয়ার ব্যাপারে সবকিছু জানি। আমার স্বামীর অবর্তমানে আমাকে যা ইচ্ছে তাই বলে যাচ্ছেন। এজন্য আমি প্রশাসনের সু দৃষ্টি কামনা করছি।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এএসআই প্রান কৃষ্ণ বলেন, ‘৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। তাদের পারিবারিক সম্পত্তিগত সমস্যায় বাবার লাশ দাফন করতে দেয়া হচ্ছেনা বলে জেনেছি। আমরা ঘটনাস্থলে এসে তাদেরকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে সমস্যাটি মিমাংসা করে নিতে বলি’। অবশেষে আব্দুল মালেক তালুকদারের মৃত্যুর ২০ ঘন্টা পর তার লাশ দাফন করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনাও হতে দেখা যায়।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।