প্রশংসায় ভাসছেন কচুয়া সমাজসেবা কর্মকর্তা নাহিদ !
শিশু ছুরাইন মোল্লাকে ‘সুবর্ণ নাগরিক’ প্রদান করছেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.হেলাল চৌধুরী ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম।
মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে কচুয়ায় সর্বত্র পরিচিত মুখ উপজেলা সমাজসেবা কর্র্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম। প্রতিবন্ধি,বয়স্ক,বিধবাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজে বের করে সরকারি ভাতা ব্যবস্থা করায় সর্ব মহলে নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

২০২১সালের ২১ শে সেপ্টম্বর কচুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। যোগদানের পর থেকে অসহায় বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সুনাম কুড়াচ্ছেন। সম্প্রতি ৯ বছরের শিশু ছুরাইন মোল্লার পাশে দাঁড়িয়ে আবারোও আলোচনায় তিনি। সাচার ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের ছোট্ট শিশু ছুরাইন মোল্লা। ৯ বছরের উচ্ছ্বল শিশু। সারাক্ষণ দুষ্টুমিতে ভরে রাখে চারপাশ। পিতা সুমন মোল্লা পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান। গত বছরের জুন মাসে দিনের কোন একটা সময় দুষ্টুমি করে আম গাছে ঢিল মেরে আম পাড়তে ব্যস্ত ছিল শিশু ছুরাইন।

হঠাৎ ঢিল গিয়ে পড়লো পল্লী বিদ্যুতের তারের উপর। তারপর ঘটে গেল তার জীবন অন্ধকারে ঢেকে দেয়া এক্সিডেন্ট। ঝলসে গেল তার দুই হাত। কয়েকটা অপারেশনের মাধ্যমে দুই হাতের পুরোটাই ফেলে দিতে হয়েছে। স্থানীয় একটা মাদ্রাসায় পড়াশুনা করছিল শিশু ছুরাইল। এখন তার জীবন কাটে নীরব-নিভৃতে। উচ্ছ্বল শিশু ছুরাইন এর মায়াবী মুখটা দেখে কান্না পাবে যে কারোরই।

বর্তমানে সে পায়ের মাধ্যমে লেখালেখির অভ্যাস করছে। বাবা মায়ের দুচোখ বেয়ে ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এর কষ্ট প্রতিনিয়ত ঝরে পড়ে। কৃত্তিম হাতের স্বপ্ন তার পরিবারের জন্য বিলাসিতা। হয়ত কোন একদিন কোন একজন দানবীর তার কৃত্তিম হাতের জন্য এগিয়ে আসবে। সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী স্যারের নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় শিশু ছুরাইন মোল্লাকে ১ ঘণ্টার মধ্যে ‘সুবর্ণ নাগরিক’ প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে তাকে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি’ কার্যক্রমে তালিকাভুক্ত করা হয়। আমরা আমাদের শিশুদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে দেখাশুনা করব। একটু সময়ের অসচেতনতায় অন্ধকার হয়ে যেতে পারে আমাদের শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

সমাজসেবা অফিসার হিসেবে প্রতিনিয়ত এমন হাজারো ঘটনার স্বাক্ষী হতে। মাঝে মাঝে দুঃখের কালো অন্ধকারে ছেয়ে যায় মন-জগত। আবার এসব অসহায় মানুসের পাশে দাড়াতে পেরে অপার্থিব আনন্দ পাওয়া যায়। এই হৃদয়বিদারক পোস্টটি “উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কচুয়া” ফেসবুক পেইজ থেকে পোস্ট করার পর প্রশংসা ভাসছেন নাহিদ ইসলাম। ছড়িয়ে পরেছে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করছেন বিভিন্ন মহল।
কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন পোদ্দার তাঁর ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেন -স্বর্নাক্ষরে কচুয়ার ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে সমাজসেবা কর্মকর্তা নাহিদ ইসলামের নাম। একজন দেশ প্রেমিক চৌকস দক্ষ নিরহংকারী বিনয়ী ও সদালাপী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কচুয়া বাসীর কাছে চির স্বরনীয় বরনীয় হয়ে থাকবে।
জানতে চাইলে সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন,সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মচারী হিসেবে আমার উপর যে অর্পিত দায়িত্ব, আমি সর্বদা নিয়ম মেনে পালন করে যাচ্ছি। অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করিনি আর করবোনা। আমি শুধু দায়িত্বের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করছি। ছোট বেলায় থেকে আমার স্বপ্ন ছিলো অসহায় বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
সৃষ্টিকর্তা মনে হয় সে সুযোগটা আমায় করে দিয়েছে। আপনাদের সহযোগীতা আমাকে আরো ভালো কাজে উৎসাহিত করবে।








