রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

হাসপাতালের বিরুদ্ধে নবজাত‌কের মাথা কাটার অ‌ভি‌যোগ: চিকিৎসক বলছেন এটা রোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৪৭ পিএম
হাসপাতালের বিরুদ্ধে নবজাত‌কের মাথা কাটার অ‌ভি‌যোগ: চিকিৎসক বলছেন এটা রোগ
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে সিজার করতে গিয়ে এক নবজাতকের মাথা কেটে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে থানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযোগ দাতাই আড়ালে চলে যান। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, মাথা কেটে ফেললে মারা যেতো নবজাতক। কাজেই মারা যেহেতু যায়নি তাই এটি হচ্ছে এক ধরনের রোগ এবং অভিযোগটা হাসপাতালের জন্য এক প্রকারের মানহানিকর।
৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক মোঃ জাহাঙ্গীর এটিকে ‘স্কীন ডিজিজ’ রোগ বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এটি বেশ কয়েক মাস আগের ঘটনা। কোন এক কুচক্রী মহলের অসৎ উদ্দ্যেশ্যে হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্ন করতে এক লোক বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেয়। এরপর আর তার কোন খোঁজখবর নেই। আমরা বিষয়টি আইনীভাবে মোকাবেলা করবো এবং কোন অসৎ উদ্দ্যেশ্য পেলে আমরা ওই লোকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে ব্যবস্থা নিবো।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম খোকন নামে এক লোক বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সিজার করতে গিয়ে তার নবজাতক কন্যা শিশুর মাথা কেটে ফেলার ঘটনার অভিযোগ করেন থানায়। সেখানে সিজারিয়ান চিকিৎসক ছিলেন ডাঃ নুসরাত জাহান মিতা। তিনিই নবজাতক সন্তানের মাথার দুটি অংশ কেটে ফেলেন এবং রক্তাক্ত করেছেন।
অভিযোগে নজরুল আরও উল্লেখ করেন, তার নবজাতক সন্তানকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার করাতে আড়াই লাখ টাকা খরছ হয় এবং হাসপাতালের লোকজন পূর্বে এ সংক্রান্ত্র খরছ বহন করবে বললেও পরবর্তীতে একটি টাকাও দেয়নি বরং একপর্যায় টাকা চাইলে মিথ্যা মামলাসহ অজ্ঞাত লোক দ্বারা মারধরের হুমকি দেয়।
এদিকে অভিযোগের সত্যতা জানতে গেলে নজরুল ইসলাম খোকন কোন কথা বলতে রাজি হননি এবং ব্যস্ততা দেখিয়েছেন। উল্টো তিনি কখনো ফরিদগঞ্জ আবার কখনো শশুড় বাড়ী হাইমচরে গিয়ে অবস্থান নেন।এমনকি তার পরিবারের লোকজনও কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার কাদির মিজি বলেন, আমরা টাকা পয়সা দেবো এমন কোন কথাই ওদরেকে বলিনি। হয়তো কোন কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে থানায় তারা অহেতুক এই অভিযোগ করেছেন। আমরা আইনী মোকাবেলা করবো এবং মানহানির বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত রাজীব চক্রবর্তী বলেন, নজরুল নামে ওই লোক অভিযোগ দেয়ার পর থেকেই শুধু একের পর এক ব্যস্ততা দেখাচ্ছে। আমরা বিষয়টি সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছি।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।