শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কো-অপারেটিভের মাধ্যমে সমবায়ীদের ভাগ্যবদল সম্ভব : মেজর অব. রফিকুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১, ৬:০০ পিএম
কো-অপারেটিভের মাধ্যমে সমবায়ীদের ভাগ্যবদল সম্ভব : মেজর অব. রফিকুল ইসলাম

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বঙ্গবন্ধুর দর্শন সমবায়ে উন্নয়ন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৫০তম জাতীয় সমবায় দিবস পালন করা হয়েছে।

শনিবার (০৬-নভেম্বর) দিনের শুরুতে উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বরে জাতীয় ও সমবায়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়। এরপর পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তারের সভাপ্রদানে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্রোগ্রামের টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার , বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.)রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বব্যাপী সমবায় আন্দোলন একটি স্বীকৃত বিষয়, বাংলাদেশেও এটি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু সমবায়ীদেরকে নিয়ে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। যেটির বাস্তবায়ন করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দিবসটিকে বছরে একবার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটির কার্যক্রম ১২ মাস বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন। জনসংখ্যার বিশাল অংশ নারীদেরকে সমবায়ী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিরও তাগিদ দেন।

এ সময় তিনি বক্তব্য ভারতের আমুল দুধের সমবায় সমিতির ও তামিলনাড়ুর কোপাটেট রেশন সুতা নির্ভর তাঁত শিল্পের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট দায় বদ্ধতা নিরসনে সমবায়ীদের কো-অপারেটিভের মাধ্যমে ভাগ্য বদল করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহি অফিসার শিরীন আক্তার তার বক্তব্য, স্থানীয় সাংসদের বক্তব্য একাত্মতা পোষণ করে, সংশ্লিষ্ট অফিসকে সরকার নির্দেশিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি সম্মিলিত প্রয়াসে সমবায়ীদের আশা-আকাক্সক্ষা প্রতিফলন হবে বলে আশা করেন।

Model Hospital

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অফিসার মোঃ মোতালেব খানের সঞ্চালনায় দিবসটির কার্যক্রম ও কর্মসূচি সূচারুভাবে সম্পন্ন হয়।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, মেহের ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, শাহরাস্তি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ মোরশেদ আলম ভূঁইয়া, পল্লী বিদ্যুৎ শাহরাস্তির জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ মোবারক হোসেন, উদ্যোক্তা শিক্ষিত বেকার সমিতি মোঃ হাবিবুর রহমান ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ, উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ শাহজাহান, মেহের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সঞ্জিত কুমার সরকার, ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুহুল আমিন, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, জাকির হোসাইন, মোঃ জামাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সিএ শাহাবুদ্দিন, প্রমুখ।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সমবায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’