রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

১ টাকায় রোগী দেখেন ৩ ডাক্তার বোন

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:৫৪ পিএম
১ টাকায় রোগী দেখেন ৩ ডাক্তার বোন

৩ বোনই ডাক্তার। চিকিৎসা সেবা দেন তবে ভিজিট হিসেবে নেন মাত্র ১ টাকা। এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করে সারা ফেলেছেন সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল, আয়েশা সিদ্দিকা, ফারজানা মোজাম্মেল নামের তিন বোন।

২০২৩ সাল থেকে ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল এক টাকায় রোগী দেখা শুরু করেন। বিষয়টি রাজশাহীতে বেশ সারা ফেলে। একই বছর থেকে অন্য বোনেরা ১ টাকায় রোগী দেখা শুরু করেন। তাদের দাবি- ‘এক টাকায় রোগী দেখার উদ্যোগটা তাদের বাবা মীর মোজাম্মেল আলীর। বাবার ইচ্ছেতেই তারা ১ টাকায় রোগী দেখেন।’

জানা গেছে, ডা. সুমাইয়া ২০২০ সালে ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ডা. আয়েশা সিদ্দিকা জেনারেল ফিজিশিয়ান। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস করেছেন। ডা. ফারজানা মোজাম্মেল ডেনটিস্ট। ২০২৩ সাল থেকে নগরীর সাহেববাজার এলাকায় নিজ বাসার নিচে চেম্বার তৈরি করে দুস্থ-অসহায় রোগীদের মাত্র ১ টাকা ভিজিটে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ৩ ডাক্তার বোন। তারা পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা সেবা দেন। যা শুধু রাজশাহীতে নয়, পুরো বাংলাদেশেই অনন্য!

২০২৩ সালে মাত্র ১ টাকা ভিজিট নিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন এমবিবিএস চিকিৎসক সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল। চিকিৎসক মেয়ের জন্য শিক্ষক বাবা মীর মোজাম্মেল আলী প্রচারপত্র বানিয়ে ছিলেন। এই প্রচারপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়। এরপর অসহায় দুস্থ রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসতে শুরু করেন সুমাইয়ার চেম্বারে।

Model Hospital

রাজশাহীর চিকিৎসক সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল বলেন, ১ টাকায় রোগী দেখার উদ্যোগটা বাবার। তার ইচ্ছেতেই রোগী দেখা শুরু করি। এটা এতোটা ভাইরাল হবে ভাবিনি। আমাদের ৩ বোনকে এভাবেই গড়ে তুলেছেন বাবা। আমরা তিন বোনই ডাক্তার। এর মধ্যে ডা. আয়েশা সিদ্দিকা জেনারেল ফিজিশিয়ান। উনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস করেছেন অনেক আগে। আরেকজন ডা. ফারজানা মোজাম্মেল। উনি ডেনটিস্ট। আমরা ৩ বোন একেক দিন একেক বোন সময় দিয়ে থাকি। আর আমার বাবা একদম বিনামূল্যে রোগী দেখতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি একটা প্রতীকি মূল্য রাখতে চেয়েছি।

ডা. সুমাইয়া বলেন, আমি ২০২০ সালে ইসলাম ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করি। ২০২৩ সালে এই উদ্যোগটা শুরু করি। কিন্তু আমি রোগী দেখতে পারবো কি না? এমন প্রশ্নও অনেকে তুলেছেন। যা খুবই দুঃখজনক। অথচ আমি এখানে প্রাইমারি ট্রিটমেন্টটা দেই। জটিল কোন সমস্যা হলে সে অনুযায়ী ডাক্তারদের কাছে রেফার্ড করি। আমি ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন নিয়মিতই চেম্বার করছি। সাধারণ মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা কোন কিছুর বিনিময়ে কেনা সম্ভব না।

বিনামূল্যে রোগী না দেখার কারণ হিসেবে সুমাইয়া বলেন, তার উদ্যোগে কয়েকজন মিলে করোনার সময় থেকে ‘দ্য ফাইভ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন পরিচালনা করছেন। সংগঠনের উদ্যোক্তা সদস্যদের নিজেদের আর্থিক সহায়তায় মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছে এ সংগঠন। তবে অনুদান না পাওয়ায় সবটাই তাদের নিজেদের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

তিন চিকিৎসকের বাবা মীর মোজাম্মেল আলী বলেন, আমার ৩টা মেয়ে। মেয়েদেরকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পেরেছি। তারা আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। আমি মানুষের জন্য কাজ করি। আমার মেয়েরাও কর্মজীবনে যাই করুক না কেন, তারা যেন অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে।

চিকিৎসা নিতে আসা শামীমা খাতুন (৩৫) নামের একজন রোগী বলেন, সাত মাস ধরে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছি। ভালোই চিকিৎসা দেন আপা। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো দিলে সেগুলো বাইরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করাই। এরপর সে রিপোর্ট দেখে ঔষুধ দেন। তিনি চিকিৎসা দিয়ে ১ টাকা করে নেন।

দাঁতের চিকিৎসা নিতে আসা কলেজ ছাত্র রফিকুল ইসলাম (১৮) বলেন, কিছু খেলে চোয়ালের দাঁতে আটকে যেত। ঠান্ডা কোন কিছু খেলে দাঁত শিরশির করতে। এখানে চিকিৎসা চলছে। এই সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে। দুই সপ্তাহ পর পর এখনে চিকিৎসার জন্য আসি। অনেকেই আসেন চিকিৎসা নিতে।

৪৫ বছর বয়সী নূর নাহার নামের এক নারী বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে কোমরে ব্যাথা। এখানে এক সপ্তাহ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। কিছুটা কমছে। অনেকগুলো ব্যায়াম দিয়েছে। একই সঙ্গে ওষুধ দিয়েছে, সেগুলো খাচ্ছি। দেখা যাক আল্লাহ ভরসা।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।