চরাঞ্চলের মানুষ আজও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত : জয়নাল আবেদীন
নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ৭:৩৭ পিএম
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন।
সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার এবং ইসলামী সমাজ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন শাখা।
গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের চাঁদপুর জেলা সভাপতি জননেতা শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে রাজরাজেস্বর ইউনিয়নের মানুষ প্রায় সকল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্ষা মৌসুমে এই ইউনিয়নটা নদীগর্ভে প্রায়ই বিলীন হয়ে যায়। ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল-মাদ্রাসা,সাধারন মানুষের ঘরবাড়ি অধিকাংশ নষ্ট হয়ে যায়। সেই হিসাবে এই ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন, অবকাঠামগত উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত কার্যকরী পদক্ষেপ নেই বললেই চলে।
তিনি বলেন, নামমাত্র প্রতিনিধি থাকলেও তারা সবাই শহর মুখী এবং শহরেই সকলের বসবাস। আজ রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি শেখ মোঃ জয়নাল আবেদিন প্রবেশ করার পর এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের আয়ের মূল উৎস নদীর মৎস্য আহরণ এবং নদীর পাশেই আমাদের বসবাস। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার যাওয়ার পর মনে করেছিলাম নদী খনন করে বালু বিক্রি বন্ধ হবে কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এখনো দেখা যায় নদী থেকে অবৈধ বালু বিক্রয় বন্ধ হয়নি। আওয়ামীলীগ তো এখন নেই তাহলে এখন এই বালু উত্তোলন কারা করছে এটা আমাদের জানার বিষয়।
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন।
এ দেশের মানুষ অনেক কিছু জানার পরেও বলতে পারেনা, দেখেও না দেখার ভান করে। দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে আওয়ামী লীগ পতনের পর আওয়ামী লীগের সেই অপকর্মে আবার কারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রধান অতিথি তাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেন একটু অপেক্ষা করেন আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্নীতি দুঃশাসন মুক্ত একটি কল্যাণময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তাহলে আপনাদের খাদেম হয়ে আপনাদের সকল নাগরিক সেবা আমরা দিয়ে যাব। অধিকার আপনার যতটুকু থাকবে আমার ততটুকুই থাকবে। এখানে কোথাও বৈষম্য হবে না ইনশাআল্লাহ।
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি গাজী মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে গণ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মাওলানা নুরুল আমিন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হুসাইন, সদর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারী মাওলানা মোহাম্মাদ আবুল হাসানাত, জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওলানা মোহাম্মাদ আল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাব্বির আহমাদ, সদর উপজেলা যুব আন্দোলনের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ মোতালেব চৌধুরী, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
এছাড়াও সমাবেশে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী
মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।