বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বরাদ্দের রাস্তা কেটে যুবদল নেতার শ্বশুর বাড়ির রাস্তা নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:০৯ পিএম
চাঁদপুরে বরাদ্দের রাস্তা কেটে যুবদল নেতার শ্বশুর বাড়ির রাস্তা নির্মাণ

চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়া গ্রামে উপজেলার উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দের রাস্তা নির্দিষ্ট স্থানে না করে ইউনিয়ন যুবদল সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের শ্বশুর বাড়ীতে নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কালাম ছৈয়ালের বাড়ির জন্য রাস্তা নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ পূর্বে ওই রাস্তা নির্মাণ হয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দক্ষিণ বালিয়া গাজী বাড়ীতে প্রবেশ পথটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন পাওয়া যায়। সিসি ঢালাই দিয়ে নির্মাণ হয় খাজা আহম্মদ গাজী বাড়ীর সামনে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই রাস্তা। এটির জন্য বরাদ্দ ২লাখ টাকা। একই অর্থ বছরে ওই ইউনিয়নে গাইড ওয়ালসহ ৬টি রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়। এই ৬টি কাজের জন্য বরাদ্দ হয় সাড়ে ১২ লাখ টাকা।

স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তির সাথে আলাপ করে জানাগেছে, শেখ হাসিনার পতনের পর ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারীসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে। ওই অর্থ বছরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বরাদ্দ নেয়া কাজগুলো গত ৫ আগস্টের পর হাতবদল হয়ে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রভাবে উন্নয়নমূলক এইসব কাজ বাস্তবায়নে খুবই বেকায়দায় রয়েছেন বলে উপজেলার প্রশাসনিক কমকর্তারা জানিয়েছেন।

রাস্তার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ পাওয়া ৭নম্বর ওয়ার্ড কালাম সৈয়াল বাড়ীর রুবেল সৈয়াল জানান, তাদের বাড়ির জন্য এই রাস্তা বরাদ্দ হয়েছে বিষয়টি জানেন না। যার নামে হয়েছে তিনি ঢাকায় থাকেন। গত অর্থবছরে এই বরাদ্দ হয়। তবে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ওই বরাদ্দের রাস্তা তার শ্বশুর বাড়িতে নির্মাণ করেছেন।

Model Hospital

ওই রাস্তার ছবি তুলতেগেলে যুবদল নেতার শ্বশুর খাজা আহম্মদ গাজী বলেন, রাস্তার নাম ফলক লেখা ভুল হয়েছে। কাজটি উনার জামাতা দেলোয়ার করেছেন এবং তার সাথে কথা বলেন।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন যুবদল নেতা দেলোয়ার। তিনি বলেন, আমি এই কাজের এখনো বিল পাইনি। আমার টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছি। আমাদের ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি বলেছেন নাম ফলক সরিয়ে নিতে। কেন অন্য ওয়ার্ডের কাজ এখানে করা হয়েছে এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি দেলোয়ার।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, এই ধরণের কাজ মান যাচাই ও সঠিক নিয়মে করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী আমাকে লিখিত দিবেন। কেউ যদি অনিয়ম করে থাকে তাহলে ওই কাজের বিল দেয়া হবে না। এই কাজটির বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital