পরিবারের প্রত্যাশা সর্বোচ্চ শাস্তি
শাহরাস্তিতে গৃহবধূ কোহিনুর হত্যা মামলার আসামী জহিরের যাবজ্জীবন
শাহরাস্তির প্রবাসী আরিফ হোসেনের স্ত্রী গৃহবধূ কোহিনুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঘাতক জহির হোসেনকে (৪৫) যাবজ্জীবন সশ্রমকারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড প্রদান করে বিজ্ঞ আদালত রায় প্রদান করেছে ।

এছাড়া তার সঙ্গে অভিযুক্ত ৪ আসামিকে বিজ্ঞ আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছে।

খালাস প্রাপ্তরা হল,আব্দুল খালেক (৬২), তার স্রী আমিরেন্নেছা (৫৮), তাদের পুত্র আবুল হোসেন (৩৩), মোঃ নুর হোসেন (২১)। সোমবার চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা দায়রা জজ বিজ্ঞ ( বিচারক) শামসুন্নাহার এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

নিহত কোহিনুর শাহরাস্তি পৌরশহরের ১১ নং ওয়ার্ডের ভাটনিখোলা বেপারী বাড়ির প্রবাসী আরিফ হোসেনের স্ত্রী। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জহির একই বাড়ির আব্দুল খালেকের পুত্র।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে,ওইসময় জহির হোসেনের স্ত্রী লাকী আক্তার ঋণ করে তার স্বামীকে সৌদি আরব পাঠায়। জহির সৌদি আরব এক মাস থেকে দেশে চলে আসে। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রী বিবাদে জড়িয়ে স্ত্রী লাকি আক্তার জহির কে তালাক দিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায়। এর কিছুদিন পরে হত্যার শিকার কোহিনুর এর আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী বিয়োগ হওয়ায় তালাক প্রাপ্ত জহিরের স্রী লাকী আক্তারের বিয়ে হয়।এতে স্ত্রী হারিয়ে জহির প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হন।
যার ফলে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে কোহিনুর বেগমের ঘরে প্রবেশ করে তাকে দা দিয়ে কুশিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি ও কুমিল্লা চিকিৎসা দিয়ে সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেকে) ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কোহিনুর বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় তার ছোট ভাই মো. হাবিব উল্লাহ বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন ১৯ এপ্রিল শাহরাস্তি থানায় ঘাতক জহির হোসেনসহ ৫ জনকে আসামী করে ১৯/০৪/২০১৯, ৪৫৮ /৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/৩০২/৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে তৎকালীন শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো আব্দুল আউয়াল বর্তমান সিলেট মেট্রোপলিটন কেন্দ্রীয় অপরাধ শাখার পুলিশ পরিদর্শক ওইসময় এ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পলাতক আসামি জহির হোসেনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩১ মার্চ আদালতে একটি চার্জশীট দাখিল করেন।
এ বিষয়ে তিনি মুঠোফোনে জানান, আমি শুকরিয়া আদায় করি। অপরাধীর সাজা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সরকারী আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. কোহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি দীর্ঘ ৫ বছরের অধিক সময় চলমান অবস্থায় ২২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে। স্বাক্ষ্য গ্রহন ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামীর অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় তার উপস্থিতিতে এই রায় দেন। অভিযোগপত্রে থাকা বাকী আসামীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আনামী পক্ষে আইনজীবি ছিলেন এড. হাবিবুর রহমান পিন্টু।
মামলার বাদী মো হাবিব উল্লাহ মুঠোফোনে গনমাধ্যামকে জানান, হত্যার শিকার কোহিনুর বেগম আমার বড় ভাই আরিফের স্ত্রী। তিনি এখনো সৌদি প্রবাসী। প্রাথমিকভাবে আমাদের বিজয় হয়েছে।
ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আপিল করব।








