বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

দারোয়ানের স্ত্রী সময়মতো গেট খুলে দিলে স্বর্ণ নিতে পারত না: গুলিবিদ্ধ আনোয়ার

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৬:২২ পিএম
দারোয়ানের স্ত্রী সময়মতো গেট খুলে দিলে স্বর্ণ নিতে পারত না: গুলিবিদ্ধ আনোয়ার

রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে গুলিবিদ্ধ স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, বাড়ির দারোয়ানের স্ত্রী সময়মতো গেট খুলে দেয়নি বলেই তাঁকে কুপিয়ে ও গুলি করে স্বর্ণ নিয়ে পালাতে পেরেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শুয়ে ইনডিপেনডেন্টকে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে নিজের বাসা বনশ্রীর ৭ নম্বর রোডের ডি ব্লকের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে মো. আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে ও গুলি করে ১৪০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, ‘দারোয়ানের স্ত্রী যদি গেট খুলে দিত, তাহলে আজকে আমার এই গুলির ঘটনা হতো না।’

ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ স্বর্ণ ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, (রোববার) রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে আমার বন্ধুর দোকানে দাঁড়াই। সেখানে ৫ মিনিট তাঁর সাথে কথা বলে বাসার উদ্দেশে মোটরসাইকেল চালিয়ে রওনা করি। আমার বাসার সামনে গিয়ে মোটরসাইকেলটি দাঁড় করাই। আমি দারোয়ানকে গেট খুলতে বলি। এর মধ্যে তিনটা মোটরসাইকেল এসে আমাকে ঘেরাও করে ফেলে। এই দেখে দারোয়ানের স্ত্রী গেট লাগিয়ে দেয়। তখনও দুর্বৃত্তরা আমাকে গুলি বা কুপিয়ে আহত করেনি। আমি দারোয়ানকে বারবার গেট খুলতে বলি, কিন্তু তিনি গেট খোলেননি।’

Model Hospital

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আপনারা তো ভিডিওতে দেখছেন, এই সময়ে তারা (দুর্বৃত্ত) আমার ব্যাগ নিয়ে টানাটানি করছিল। পরে আমাকে কুপিয়ে ও গুলি করে আমার ব্যাগে থাকা ১৪০ ভরির মতো স্বর্ণ ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে যায়। দারোয়ানের স্ত্রী যদি পকেট গেট খুলে দিত তাহলে আমি কিন্তু বাসার ভেতরে ঢুকে যেতে পারতাম। তাহলে তারা আমার ব্যাগ এবং নগদ টাকা কিছুই নিতে পারত না। দুর্বৃত্তরা আমাকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করতে পারে না।’

আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘ব্যাগ দিতে না চাওয়াই তারা আমাকে কুপিয়ে জখম ও ৩টি গুলি করে। আমার দুই পায়ে দুটি গুলি ও অন্ডকোষে একটি গুলি লাগে। তবে এখন পর্যন্ত চিকিৎসক জানিয়েছে আমার শরীরে কোনো গুলি নেই এবং অন্ডকোষের একটি অস্ত্রোপচার হবে। শরীরের যে কয়েকটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে সেগুলো অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।’

স্বর্ণ ব্যবসায়ী আনোয়ার আরও বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ আগে ডিবি পরিচয় দিয়ে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো। আমাকে বলা হতো– আমি অবৈধ স্বর্ণ কিনি, আমার নামে মামলা আছে। এসব কথা বলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা আমার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা নেয়। পরে তাদের আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তখন আমি তাদের কল করি যে, ভাই সরাসরি এসে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। তখন ওই ব্যক্তি জানায় ঢাকার বাইরে আছে, এসে দেখা করবে। এরপর আমি আবার কল করলে অপর প্রান্ত থেকে বলে তার সিমটি হারিয়ে গিয়েছিল। ওই লোকটি প্রতারক ছিল বলে অপরপ্রান্ত থেকে ওই ব্যক্তি আমাকে জানায়। আমাকে তিনটি নম্বর থেকে কল দিয়েছিল, সে নম্বরগুলো হলো- ০১৯৪১৮৯৫৫২০, ০১৭০৭২২৯০৯৫, ০১৮৪৬৭৪০৭৪৭।’

আহত মো. আনোয়ারের চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ আগে রোগীকে দেখে আসলাম। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের দুই নাম্বার বেডে চিকিৎসাধীন। তাঁর কাঁধে একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যার কারণে তিনি ওই হাতটি এখন নড়াচড়া করতে পারছেন না। তবে সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক্সরে করে আমরা তাঁর শরীরের ভেতরে গুলি দেখতে পাইনি। ধারণা করছি তাঁর অন্ডকোশেও একটি গুলি লেগেছিল। সেটির অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবারো তাঁর অন্ডকোশ ও কোমরে এক্সরে করা হবে। তাহলে বলা যাবে সম্পূর্ণভাবে তাঁর শরীরে কোনো গুলি এখনো আছে কি নাই। তবে এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল আছে, আশঙ্কার কোনো কিছু নেই।’

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital