শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে ৪৮ বোতল ফেনসিডিলসহ চালক আটক; ছাত্রলীগ নেতা হিটুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২, ২:৩৩ পিএম
হাজীগঞ্জে ৪৮ বোতল ফেনসিডিলসহ চালক আটক; ছাত্রলীগ নেতা হিটুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাদক বিরোধী নিয়মিত অভিযানে ৪৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক প্রাইভেটকার চালককে আটক করেছে থানা পুলিশ।

ফেনসিডিল রেখে পালিয়ে গেলো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হিটু। পুলিশ ৪৮ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে। ওইসময় প্রাইভেটকার জব্দ ও চালক আলমগীর হোসেনকে আটক করে পুলিশ। গত পাঁচ মাসে হাজীগঞ্জ উপজেলায় অন্তত পাঁচটি প্রাইভেটকার দেশের বিভিন্নস্থানে মাদকদ্রব্যসহ জব্দ হয়। প্রাইভেটকার চালকেরা বেশিরভাগ টোরাগড় এলাকার বাসিন্দা। তবে তারা কেউ হাজীগঞ্জ রেন্ট-এ-কার মালিক ও ড্রাইভার সমিতির সাথে জড়িত নয়।

প্রাইভেটকার চালক আলমগীর হোসেনের ভাষ্যমতে পুলিশ জানায়, তিনজনের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হিটু, মেহেদী হাসান জুয়েল ও চালক আলমগীরে হোসেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার আলীগঞ্জে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অবস্থান নেয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রো-গ- ৩৭-৯৩২২ প্রাইভেটকারটি সন্দেহবসত আটক করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় প্রাইভেটকারে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাবীবুর রহমান হিটু। তাৎক্ষণিকভাবে প্রাইভেটকারের তল্লাশি চালিয়ে আলুর ব্যাগ থেকে ৪৮বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। ওইসময় প্রাইভেটকারসহ চালক মো: আলমগীর হোসেন (৩৫) কে আটক করে পুলিশ।

Model Hospital

গত পাঁচ মাসে মাদকদ্রব্যসহ জব্দকৃত প্রাইভেটকারগুলোর মধ্যে মালিক হোসেনের দুইটি প্রাইভেটকার। একটির চালক আবির হোসেন। ইয়াবাসহ পুলিশ আলীগঞ্জ থেকে প্রাইভেটকারটি জব্দ করে। অপরটি শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই আলীগঞ্জে ফেনসিডিলিসহ চালক আলমগীর গ্রেফতার করা হয়। রাজধানীতে এম্বুলেন্সসহ টোরাগড়ের রিপন খান ২৮ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার হয়। নোহা গাড়ীতে ৫’শ পিচ ইয়াবাসহ টোরাগড়ের সাকিব গ্রেফতার হয়। এছাড়া ফকির বাজারের ডন আরমান ৯০ পিচ চোরাই মোবাইল প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার হয়।

জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ রেন্ট-এ-কার মালিক ও ড্রাইভার সমিতির দায়িত্বশীলরা বলেন, আটককৃত বা জব্দকৃত প্রাইভেটকার ও চালকেরা সমিতির সাথে সম্পৃক্ত নেই। এদিকে ফেনসিডিলিসহ প্রাইভেটকার জব্দের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হিটু তার ফেসবুক আইডিতে ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে দাবী করেন। ওইসময় তিনি বাড়ীতে ছিলেন।

তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ পিপিএম ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনর রশীদ ফেনসিডিল ও প্রাইভেটকার জব্দের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হিটুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’