বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদে

চাঁদপুরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিক্ষোভ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:৪০ পিএম
চাঁদপুরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিক্ষোভ

‘গাজার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে’ চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট।। ইতিহাসের নৃশংসতম ধ্বংসযজ্ঞ, বর্বরতা চলছে ফিলিস্তিনের গাজায়। বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল গাজায় পৈশাচিকতার, অমানবিকতার সকল সীমা অতিক্রম করে নিরীহ নিরস্ত্র মুসলমানের উপর ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। নারী শিশু কেহই বাদ যাচ্ছে না তাদের এই নারকীয় তাণ্ডব থেকে।

ইসরায়েলের এই মানবতা বিরোধী জঘন্য কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে চাঁদপুর জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল ২০২৫) সকালে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জমায়েত ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে এখান থেকে শহরে মিছিল বের করা হয়। মিছিলের মাঝখানে শপথ চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হাসান আলী স্কুল মাঠে এসে মিলাদ মুনাজাতের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসী ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের বর্বরোচিত ধ্বংসলীলায় পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিন, গাজা হারিয়ে যাচ্ছে! অথচ ওআইসি এবং আরবলীগ এখনো চুপ করে আছে। তারা তাদের প্রভু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং ইসরায়েলের সেবা দাসত্ব নিয়েই ব্যস্ত। আমরা ধিক্কার জানাই ওআইসি এবং আরবলীগের এমন নির্লজ্জ ভূমিকার জন্যে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানাবো- ফিলিস্তিন এবং গাজার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করুন।

Model Hospital

এখনো পর্যন্ত ইসরায়েলের বর্বরতার নিন্দা বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জানানো হয় নি, যা বাংলাদেশের মতো একটা মুসলিম দেশের জন্য খুবই লজ্জার। আমরা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাবো- অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানানো হোক। একইসাথে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ঘোষণা রাষ্ট্রীয়ভাবে দেয়া হোক। বক্তারা প্রতিবাদের নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের দোকানপাটে হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের আইনের আওতায় আমার দাবি জানানো হয়।

বক্তব্য রাখেন- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত চাঁদপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এএইচএম আহসান উল্লাহ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত নেতা পীরজাদা মাওলানা মাহফুজ উল্লাহ ইউসুফী, পীরজাদা মাওলানা খাজা মোহাম্মদ জুবায়ের, মাওলানা রবিউল হাসান, পীরজাদা মাওলানা নূর মোহাম্মদ আরেফিন, মাওলানা আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা গাজী মোহাম্মদ আব্দুর রাহীম, যুবসেনার জেলা সভাপতি বজলুর রশিদ সোহেল, সাধারণ সম্পাদক নবাব খান, ছাত্রসেনার জেলা সভাপতি কামরুল হাসান বাবু, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন সংগঠনের জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।