রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

বিপ্লবের হাওয়া চাঁদপুর-৫ আসনে

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র শীর্ষ প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে!

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:০০ এম
বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র শীর্ষ প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে!

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসন ঘিরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এই আসনে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যকার লড়াই জমে উঠতে শুরু করেছে।

বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাঁরা আলোচনায় রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন এবং এলাকায় একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তৃণমূল সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তাঁর অবস্থান এখনো অনেক ভোটারের কাছে দৃঢ় এবং শ্রদ্ধার স্থানে রয়েছে।

এছাড়া চাঁদপুর জেলা বিএনপি’র সদস্য ব্যারিস্টার মো. কামাল উদ্দিন সম্প্রতি এলাকা জুড়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন তরুণ, শিক্ষিত এবং আধুনিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। তাঁর নেতৃত্বে ছাত্র ও পেশাজীবী মহলে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির আরেক সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন খোকন, যিনি দলটির যুবদল ঘরানার একজন বলিষ্ঠ নেতারূপে পরিচিত। তরুণ ও পরিবর্তনকামী ভোটারদের মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে।

Model Hospital

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলাম থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন মাওলানা আবুল হোসেন, যিনি দলটির একজন শীর্ষস্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং এলাকায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পরিচিত মুখ। তাঁর প্রার্থীতা জামায়াতের সাংগঠনিক ভোট ব্যাংককে সক্রিয় করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী চাঁদপুর-৫ আসনে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং জনসংযোগ দক্ষতা এই নির্বাচনে তাঁকে অন্যতম আলোচিত প্রার্থী করে তুলেছে, যদিও দলীয়ভাবে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি এখানকার বড় দলগুলোর তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

এই আসনে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন রফিকুল ইসলাম, যিনি একাধিকবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে বর্তমানে তিনি এলাকায় ফিরে আসেননি এবং দলের স্থানীয় নেতৃত্বে স্পষ্ট বিভাজন থাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও এ আসনে চাপের মুখে রয়েছে।

তৃণমূলের জরিপে দেখা যাচ্ছে, তরুণ ভোটার, শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এবং পরিবর্তন প্রত্যাশীরা এখন বিএনপির দিকেই ঝুঁকে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি সঠিক, গ্রহণযোগ্য এবং সাহসী নেতৃত্বকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে চাঁদপুর-৫ আসনে দীর্ঘদিন পরে একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করা যাবে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।