শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের উত্তর নানুপুরে ডাকাতিয়ার তীব্র ভাঙ্গন ; হুমকির মুখে ৫’শ বসতবাড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৪২ পিএম
চাঁদপুরের উত্তর নানুপুরে ডাকাতিয়ার তীব্র ভাঙ্গন ; হুমকির মুখে ৫’শ বসতবাড়ি

চাঁদপুরের উত্তর নানুপুর গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙ্গনে ফসলি জমি, বসতভিটা ও কবরস্থান ডাকাতিয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ডাকাতিয়ার ভাঙ্গন রক্ষায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড উত্তর নানুপুর গ্রামে নদীর তীরবর্তী ভাঙ্গন স্থানে মানববন্ধন করে এলাকার প্রায় শতাধিক এলাকাবাসী। এসময় তারা ডাকাতিয়া নদীর ভাঙ্গন থেকে পৈত্রিকভিটা রক্ষায় সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুদৃষ্টি কামনা করে।

সরজমিনে দেখা যায়, ডাকাতিয়া নদীর হঠাৎ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে অত্র এলাকা ও আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম। গত এক দশকে শুধু নানুপুর এলাকার ডাকাতিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলি জমি।

Model Hospital

ডাকাতিয়া নদীর ভাঙন সম্পর্কে নদীর পাশে বসবাসকারী মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও শাহাদাত তালুকদার বলেন, নদীর পাশে এই ফসলি জমিগুলো অনেক বড় ছিল এবং কৃষকরা ফসল করতে। বর্তমানে প্রত্যেকটা ফসলি জমি এমন অবস্থায় আছে যে আগামী বছর আর একটাও ফসলি জমি থাকবে না। আমরা গরীব মানুষ যদি এই ফসলি জমিগুলো ভেঙ্গে যায় তাহলে কিভাবে চলবো ও কিভাবে খাব। আমাদের দাবি যদি একটু ব্লক দিয়ে নদীর পাড় গুলো বেঁধে দেওয়া হয় তাহলে জমিটা বাঁচলো, আমরাও কাজ কাম করে খেতে পারব।

ভাঙন এলাকায় বসবাসকারী মাজেদা বেগম, হনুফা বেগম ও রওশন আর বেগম জানান, গত ২০-২৫ বছর ধরে আমাদের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি ডাকাতিয়া নদীতে বিলীন হয়ে যায়। কত মানুষরে জানাইছি দেখার মত কোন মানুষ আসে না। এখন ছেলেমেয়ে নিয়ে আমরা কোথায় যাব কি করব বুঝতে পারছি না। আমাদের ছেলেমেয়েদের বিয়ে করাতে পারিনা। গাং ভাংতি বলে কেউ মেয়েদের নেয় না এবং ছেলেদের কেউ কেউ বউ দেয় না। নদী এখন ঘরে মধ্যেই বললেই চলে। বর্তমান সরকার যদি নদীভাঙ্গা থেকে আমাদের রক্ষা করে তাইলে আমরা বাঁচতে পারব।

ডাকাতিয়ার ভাঙ্গন রক্ষায় দীর্ঘ সময় নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে মানববন্ধনে এলাকাবাসী নদীর ভাঙ্গন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবী তোলেন। এ সময় মানববন্ধনে উত্তর নানুপুর গ্রামের খোরশেদ বেপারী, আবু সাঈদ গাজী, আবুল কালাম গাজী, আতিক তালুকদার, মো. শাহজাহান পাটোয়ারী, শাহাদাত তালুকদার, হেলাল তালুকদার, নেছার তালুকদার, মাজেদা বেগম, হনুফা বেগম, রওশন আর বেগম, আবুল বেপারী, মিন্টু গাজী, নেছার বেপারীসহ এলাকার প্রায় শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

ডাকাতিয়া নদীর চলমান ভাঙ্গন বিষয়ে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ডাকাতিয়া নদীর বেশ কয়েকটি স্থানে নদী ভাঙ্গন প্রবণতা রয়েছে। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী কাজ বাস্তবায়নের জন্যে ডিটেল ফিজিবিলিটি স্টাডি করে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যা বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি পাস হলেই ভাঙন রক্ষায় কাজ করা হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital