জমইয়াতে হিযবুল্লাহর আমীর ও ছারছীনা শরিফের হযরত পীর ছাহেব কেবলা আলহাজ্ব মুফতি শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হোসাইন (মাদ্দা জিল্লহুল আলী) তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আল্লাহ তা’য়ালার অসীম রহমতে আমরা আজ এখানে সমবেত হয়েছি দ্বীনের আলোচনা করার জন্য। এটা আল্লাহর এক বিরাট নিয়ামত। যারা দ্বীনি মজলিসে অংশ নেয়, তাদের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করে, রহমতের চাদর বিছিয়ে দেয়। এই ধরনের মাহফিল ঈমান মজবুত করে, আল্লাহর প্রেম সৃষ্টি করে, এবং গুনাহ থেকে তাওবা করার সুযোগ দেয়।
তিনি আরো বলেন, নামায হল দ্বীনের স্তম্ভ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “নামায ধর্মের মূল স্তম্ভ, এটি ঠিক থাকলে সবকিছু ঠিক থাকবে।” আমরা অনেকেই কাজের অজুহাতে নামায ছেড়ে দিই, অথচ কেয়ামতের দিনে সর্বপ্রথম হিসাব হবে নামায নিয়ে। আসুন, আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতসহ আদায়ের অঙ্গীকার করি।
৬ দিনের সফরে চাঁদপুরে পীর ছাহেবের আগমন উপলক্ষে বুধবার রাতে (৭মে ২০২৫) হাইমচর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম দিনের মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর হাফেজ মুফতি শাহ্ আবু বকর সালেহ মোহাম্মদ নেছারুল্লাহ (মাঃ জিঃ আঃ), ছারছীনা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ রুহুল আমিন আফসারী, ছারছীনা দরবার শরীফের মুবাল্লেগ মাওঃ হেমায়েত বিন তৈয়্যব, জেলা জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সভাপতি মাওঃ মোঃ সাইফুদ্দিন খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক মাওঃ মোঃ মমিনুল ইসলাম খান, হাইমচর উপজেলার সভাপতি মাওঃ খাজা আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মাওঃ মোঃ ইউসুফ মিয়া প্রমুখ।
চাঁদপুর জেলা জমইয়াতে হিযবুল্লাহ ব্যপক কর্মসূচি গ্রহণ মধ্যে ৮মে বৃহস্পতিবার ফরিদগঞ্জ নয়াহাট হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বাদ জোহর, ৯ মে শুক্রবার ফরিদগঞ্জ গল্লাক বাজার ইদগাহ ময়দানে বাদ জুমা, ১০মে শনিবার চাঁদপুর শহরের বিটি রোডস্থ রঙ্গেরগাঁও দারুচ্ছুন্নাত ছালেহীয়া দীনিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে বাদ আছর, ১১মে রবিবার হাজীগঞ্জ প্যারাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাদ আছর, ১২ মে সোমবার শাহরাস্তি একাতড়ী দারুচ্ছুন্নাত ছালেহীয়া দীনিয়া মাদরাসা মাঠে বাদ আছর থেকে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল এবং জমইয়াতে হিযবুল্লাহ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া চাঁদপুর জেলার ৩২টি দীনিয়া মাদ্রাসার খোঁজ খবর নিবেন, তরিকতের ছবক প্রধান করবেন এবং প্রত্যেক উপজেলার সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও তালীম সম্পাদকগণের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
পীর ছাহেব আরো বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। তিনি যেমন খাওয়া-দাওয়া করেছেন, যেমন কথা বলেছেন, যেমন চালচলন করেছেন — সবই আমাদের জন্য পথনির্দেশ। আমরা যদি তাঁকে ভালোবাসি, তবে অবশ্যই তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরতে হবে। তিনি আরো বলেন, আজ সমাজে অশান্তি, অন্যায়, জুলুম বেড়েই চলেছে। এর কারণ হল, আমরা আল্লাহর বিধান থেকে দূরে সরে গেছি। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন গড়তে হবে। পীর-মুরশিদ হলেন আত্মার চিকিৎসক। যেমন শরীরের অসুখ হলে ডাক্তার দরকার, তেমনি রুহানী রোগ মুক্ত করতে একজন যোগ্য মুরশিদের সাহচর্য প্রয়োজন। তবে মনে রাখতে হবে, পীরের অনুসরণ মানে দ্বীন ও শরীয়তের বাইরে কিছু নয়। সত্যিকার পীর সবসময় কুরআন ও সুন্নাহর পথে চালিত করেন।
চাঁদপুরের অন্যান্য জমইয়াতে হিযবুল্লাহ সম্মেলন এবং ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল সফল করার লক্ষে ছারছীনা দরবার শরীফ থেকে প্ররিচালিত বৃহত্তর অরাজনৈতিক সংগঠনের বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ, যুব ও ছাত্র হিযবুল্লাহ এবং আইয়াম্মায়ে হিযবুল্লাহর চাঁদপুর জেলার সকল উপজেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিত হতে এবং দ্বীনদার মুসলমান ভাইদের উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা সভাপতি মাওঃ মোঃ সাইফুদ্দিন খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক মাওঃ মোঃ মমিনুল ইসলাম খান।