শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাপসা চাঁদপুর জেলা কমিটি ২য় মেয়াদে সভাপতি সুলতান, সম্পাদক রোকন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১, ৭:১২ পিএম
বাপসা চাঁদপুর জেলা কমিটি ২য় মেয়াদে সভাপতি সুলতান, সম্পাদক রোকন

সজিব খান : বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি (বাপসা) চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৬ নভেম্বর সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি (বাপসা) চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সাধারণ সভায় ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি (বাপসা) চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মোঃ সুলতান মাহমুদ এর সভাতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কুদ্দুছ আখন্দ রোকন এর সভা পরিচালনায় উপস্থিতিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বাপসা’র সহ-সভাপতি মোঃ বশির উল্যাহ খন্দকার, যুগ্ম সম্পাদক মহিবুবুল আহসান নিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সালামত উল্ল্যাহ খান শাহিন, অর্থ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ সোহেল, প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মানিক, গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব নির্মল কৃষ্ণ পাল, চাঁদপুর সদর উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি বাপসা’র সভাপতি মিজানুর রহমান সর্দার, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন সোহাগ, মতলব উত্তর উপজেলা বাপসা’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মানিক মিয়া, এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ করিম আহমেদ দিপু, মতলব উত্তর উপাদী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ ওয়াদুদ সরদার, কচুয়া উপজেলা বাপসা’র সভাপতি মোঃ ওয়ালী উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ফররুখ আহমেদ, শাহরাস্তি উপজেলা বাপসা’র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, সদস্য মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী, হাজীগঞ্জ উপজেলা বাপসা’র সভাপতি সোলায়মান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, ফরিদগঞ্জ উপজেলা বাপসা’র সভাপতি গোলাম মোস্তফা শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তু দে, সদস্য প্রবাহ চন্দ্র দাস, মতলব দক্ষিন উপজেলা বাপসার সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান রিয়াদ, ফতেহপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল ওহাব প্রমুখ। উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৩ বছরের জন্য বর্তমান কমিটিকে পুনরায় নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি (বাপসা) চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখছেন বাপসা চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি সুলতান মাহমুদ। পাশে বিভিন্ন উপজেলার বাপসা নেতৃবৃন্দ।

নির্বাচিতরা হলেন : সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সহ-সভাপতি মোঃ বশির উল্যাহ খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কুদ্দুছ আখন্দ রোকন, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মহিবুবুল আহসান নিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক ছালামত উল্যাহ খান শাহীন, অর্থ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ সোহেল, প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মানিক। উক্ত কমিটির মেয়াদ শুরু হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’