বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

টাকা নিয়েই দিচ্ছে ব্লক

ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির বিজ্ঞাপন থেকে সাবধান

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫, ৮:৪০ পিএম
ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির বিজ্ঞাপন থেকে সাবধান

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। মাছের রাজাও বলা হয় ইলিশকে। চাঁদপুরের ইলিশ বেশ সুস্বাদু এবং গুণগত মানের জন্য পরিচিত লাভ করছে। এ কারণে চাঁদপুরকে “ইলিশের বাড়ি” হিসেবেও বলা হয়। কারণ এখানে ইলিশের প্রজনন এবং উৎপাদনে ব্যাপকতাও রয়েছে।

মৎস্য বিজ্ঞানীরা চাঁদপুরের নদীর পানিতে বিশেষ খাদ্যকণা থাকে, যা ইলিশকে আরও সুস্বাদু করে তোলে মনে করেন। ইলিশের সাথে চাঁদপুরের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। যা এ মাছের প্রতি মানুষের মনের মধ্যে একটি বিশেষ আবেগ তৈরি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরে গড়ে উঠেছে ইলিশের ব্যাণিজিক কেন্দ্র। এ জেলার বিভিন্নস্থানে অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও ইলিশ বিক্রি করা হয়। তবে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে এক শ্রেণির অসাধু প্রতারক চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক পেজ খুলে প্রতারণা করে আসছে। অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে চাঁদপুরের বড় বড় ও তাজা ইলিশের ছবি কিংবা ভিডিও তৈরি করে ফাঁদ পেতে চক্রের সদস্যরা। বিভিন্নভাবে মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। টাকা পাঠিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত ইলিশ পাচ্ছেন না ক্রেতারা। টাকা-পয়সা নিয়ে এক সময় মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দেয় এ চক্র। পরে বার বার যোগাযোগ করেও সাড়া না পেলে বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছে অনেকেই।

ইলিশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদপুরের বৈধ কিছু অনলাইন ইলিশ বিক্রেতার লোগো, পুরনো ভিডিও যুক্ত করে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা করেই যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা। তাদের ফাঁদ থেকে বাদ পড়ছেন না চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। এসব প্রতারকদের তৎপরতার বিষয়টি এখন আর গোপন নেই। জেলা প্রশাসন, পুলিশ থেকে শুরু করে সবারই জানা। এরপরও ধরা পড়ছে না কেউ। প্রশাসন কঠোর হলেও এসব প্রতারক ধরা ছোয়ায় বাইরে থাকছে। তবে প্রতারণা থেকে মুক্তির জন্য চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করা হয়েছে।

Model Hospital

কয়েকদিন আগে এমনই প্রতারণার শিকার রাজধানী ঢাকার এক চাকরিজীবী কামাল হোসেন। তিনি একটি এনজিওতে চাকরি করেন। ঢাকাতেই থাকেন। চাঁদপুরের ইলিশের স্বাদ নিতে অনলাইনে “ইলিশের রাজ্য চাঁদপুর” নামে একটি ফেসবুক পেজের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি ইলিশ কেনার জন্য এই প্রতারক চক্রকে ১২ হাজার ৩০০ টাকা দেন। কিন্তু চক্রটি ইলিশ তো দূরের কথা, উল্টো কামাল নামে এই ব্যক্তির ফেসবুক আইডি তারা ব্লক করে দিয়েছে।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক সংবাদকর্মী ও শিক্ষক জানান, ১০-১২ দিন ধরেই অনলাইনে ডিসকাউন্টের (মূল্যছাড়) অফার দেখিয়ে প্রতারক চক্রের একজন তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। ইলিশ আনতে গিয়ে দেখেন, ওই পরিবহনের অস্তিত্বই নেই। প্রতারক যে পরিবহনের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছে, সেটিও হ্যাক করা হয়েছে এবং সেই ব্যক্তিও প্রতারিত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, প্রতারক তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, নাম, বাবার নামসহ সব তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছে। পাঠিয়েছে তরতাজা বড় বড় ইলিশ মাছের ভিডিও, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স। অফার দিয়েছে দুই কেজি ওজনের ইলিশ মাত্র ৬০০ টাকা কেজি। অথচ এই দামে ১৫ বছর আগেও ইলিশ বিক্রি হয়েছে কিনা মনে করতে পারেন না জেলা শহরের মানুষ। আর এই ওজনের ইলিশ ভরা মৌসুমেও (আগস্ট-অক্টোবর) জেলের জালে ধরা পড়ে না।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, অনলাইনে যেসব ফেসবুক পেজ জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সদস্যদের, সেগুলোর তালিকা করে নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা বহির্ভূত অন্যান্য অনলাইন পেজ থেকে সংশ্লিষ্টদের ইলিশ ক্রয়ের বিষয়ে প্রতারণা হতে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ প্রতারিত হলে আপনার নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করতে পারেন। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমাদের কাছেও অভিযোগ আসে। প্রতারণা যারা করছে, তারা চাঁদপুরের বাইরের লোক হতে পারে। কারণ এখানে তালিকাভুক্ত যারা রয়েছেন, আমরা যতটুকু জানি তারা এটি করছেন না। কেউ করলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital