শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়লার ভাগাড়ে স্বাগত ও বিদায় জানায় প্রথম শ্রেনীর হাজীগঞ্জ পৌরসভা

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫, ৯:১০ পিএম
ময়লার ভাগাড়ে স্বাগত ও বিদায় জানায় প্রথম শ্রেনীর হাজীগঞ্জ পৌরসভা

হাজীগঞ্জ পৌরশহরের ত্রিমূখী ঢোকার পথে সড়কের পাশে আবর্জনার স্তুপ।

দেশের প্রথম শ্রেনীর একটি হাজীগঞ্জ পৌরসভা। ২০.২৪ বর্গ কিলোমিটারের এ পৌরসভায় স্বাগত ও বিদায় জানায় ময়লার ভাগাড়। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের হাজীগঞ্জ পৌর সীমান্তে দেখা মিলবে একটি তোরণ। সেখানে লেখা রয়েছে ‘স্বাগত হাজীগঞ্জ পৌরসভা’। এদিকে হাজীগঞ্জ থেকে কচুয়া যাওয়ার পথে লেখা রয়েছে- ‘ধন্যবাদ হাজীগঞ্জ পৌরসভা’।

উপরে স্বাগত ও ধন্যবাদ হাজীগঞ্জ পৌরসভা আর নিচে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। এ যেন সচেতন মহলে এক অজানা কৌতুহল কাজ করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ- কচুয়া সড়কটি যোগাযোগের একটি ব্যস্ততম মাধ্যম। হাজীগঞ্জ পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে হাজীগঞ্জ পৌরসভা ও বিভিন্ন হাটবাজারের ময়লা আবর্জনা। এসবের দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন আশপাশের মানুষ। একই সাথে হাজীগঞ্জ- কচুয়া সড়কে পথচারী ও হাজার হাজার যাত্রীকে চলাচল করতে হচ্ছে নাক চেপে। মাঝে মাঝে এসব ময়লা আবর্জনায় লাগানো আগুনের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এলাকাটি।

শুধুমাত্র এই সড়কটিই নয়, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জে পৌরসভাধীন মিঠানিয়া ব্রিজ ও আলীগঞ্জ এবং লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ- হাজীগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের মূখে সড়কের দুই পাশে বাসা বাড়ি ও হাটবাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ময়লার কারণে ভরাট হয়ে গেছে সড়কের পাশে থাকা জলাশয়গুলোও। ক শ্রেনীর এই পৌরসভার চতুর্মুখী ময়লা আবর্জনার স্তুপের দুর্গন্ধে দূষিত হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ। এ ধরনের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পৌর বাসিন্দারা।

Model Hospital

ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভার নিজস্ব নির্দিষ্ট কোন জায়গা বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় যত্রতত্রস্থানে বাসিন্দাদের ময়লা আবর্জনা ফেলতে হচ্ছে। এর কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে আশপাশের বাসিন্দাদের। হাজীগঞ্জ পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌর এলাকা ও বিভিন্ন হাটবাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টনের মতো বর্জ্য সংগ্রহ করে হাজীগঞ্জ পৌরসভা। পাশাপাশি পৌর বাসিন্দাদের আরো ২০ টন সহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টন এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় সেগুলো ফেলা হচ্ছে চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মিঠানিয়া ব্রিজের উত্তরপূর্ব ও পশ্চিম পাশ, হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া ব্রিজের পাশে, হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের রেল গেইট এলাকা, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের উত্তর পাশ এলাকায়।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার কয়েকজন স্থায়ী বাসিন্দা বলেন, পৌরসভা থেকে ময়লা এনে আমাদের এখানে ফেলে এখানকার পরিবেশ দূষিত করে রেখেছে। দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে। তারা আরো বলেন, পৌরসভা আমাদের কোনো কথাই শুনছে না। তাদের খেয়াল খুশিমতো মহাসড়কের পাশে ও জলাশয়ে আবর্জনা ফেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জিম্মি করে রেখেছেন। তারা নাক চেপে দুর্গন্ধের মধ্যেই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃ নিস্কাশন) মোঃ মাহবুবুর রশীদ বলেন, পৌরসভার কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। ডাম্পিং স্টেশনের জন্য পৌরসভার মালিকানাধীন জমি প্রয়োজন, সেটি নেই। আর বর্জ্য ফেলার জন্যও পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থান নেই। তাই মিঠানিয়া ব্রিজ এলাকায় সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সাবেক পৌর মেয়ররা সেখানে বর্জ্য ফেলার জন্য জায়গাটি নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোঃ ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, সব ময়লার স্তূপ পরিশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। বিকল্প জায়গার বন্দোবস্ত না হওয়া পর্যন্ত পৌরসভার ময়লা এসব স্থানে ফেলতে হচ্ছে। সাময়িক সময়ের জন্য পৌরবাসীকে একটু সচেতনতার মাধ্যমে সঠিক স্থানে ময়লা ফেলার আহবান জানানোর কথা বলেন এই কর্মকর্তা।

নোটঃ ২০.২৪ বর্গ কিলোমিটার হাজীগঞ্জ পৌরসভার জনসংখ্যা সোয়া এক লাখ। ১৯৮৫ সালের ১৪ মার্চ হাজীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে গ শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯৮ সালের ১২ মে এ পৌরসভাকে খ শ্রেণীতে এবং ২০০৪ সালের ১২ জুলাই ক শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়। পৌরসভায় ৪টি কলেজ, ৪টি মাদ্রাসা, ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মূলত কৃষি, ব্যবসা এবং বৈদেশিক রেমিটেন্স থেকে এ পৌরসভার অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital