শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আশিকাটি ইউপি নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডে দায়িত্ব নিতে চান ৭ প্রার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১, ৭:৩৪ পিএম
আশিকাটি ইউপি নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডে দায়িত্ব নিতে চান ৭ প্রার্থী
গাজী মোঃ মহসিন : সারাদেশে আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সদর উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নেও রয়েছে এ তালিকায়। নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য পদপ্রার্থীরা।
এর মধ্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থীরা তাদের এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তাই সর্বত্র বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। তবে উক্ত ইউনিয়নের নতুন ভোটারদের নির্বাচন নিয়ে বেশ উৎফুল্ল থাকতে দেখা গেছে। তরুণ ভোটাররাই প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন ও প্রার্থীদের হয়ে কাজ করছেন।
আশিকাটি ইউনিয়নের মধ্যে ১নং ওয়ার্ড আশিকাটি গ্রামে প্রায় ১৪ হাজার লোকের বসবাস। আর এই ১৪ হাজার লোকের দায়িত্ব নিতে চান ৭ জন মেম্বার প্রার্থী। ৭ জন মেম্বার প্রার্থী তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দিন রাত মানুষদের দ্বারে দ্বারে গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
৭জন মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৬ জন ও বিএনপি সমর্থিত ১জন। প্রার্থীরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান ইউপি সদস্য মোঃ দুলাল মালের মোরগ মার্কা, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহ আলম গাজীর ভ্যানগাড়ি মার্কা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ সাদ্দাম খানের বড় ভাই ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মোঃ রুবেল খানের সিলিং ফ্যান মার্কা, বাবুরহাট আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মান্নান মাল, আওয়ামীলীগ সমর্থক মোঃ ইউছুফ মাল ফুটবল মার্কা, মোঃ মানিক খান ও বিএনপি সমর্থক মোঃ খলিল সরকার চাপকল মার্কা
এ ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৯০ জন মূল্যবান ভোটে ১৪ হাজার জনগনের দায়িত্ব দিতে চান মোরগ প্রতীকে মোঃ দুলাল মাল ও সিলিং ফ্যান প্রতীকের প্রার্থী মোঃ রুবেল খান। উক্ত ওয়ার্ড সরেজমিনে ঘুরে এই দুইজনকেই দায়িত্ব দিতে চান ওয়ার্ডবাসী। এদের মধ্যেই আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে মোরগ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ দুলাল বলেন, আমি উক্ত ওয়ার্ডে নির্বাচিত হলে জনগণের সুখ দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করব। এই ইউনিয়নের মধ্যে একটি আধুনিক ওয়ার্ড গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাবো। জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাব এবঙ আমি এই ওয়ার্ডকে একটি সুশৃংখল মাদক ইভটিজিং বাল্যবিবাহ ও সকল অপরাধ কর্মকাণ্ড নির্মূলে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।
অনান্য ৬জন প্রার্থীর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’