“মেগা প্রকল্প ছিল মেগা লুটপাটের মাঠ”—প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অর্থ লোপাট হয়েছে, তা জাতির অজানা নয়। তার ভাষায়, “মেগা প্রকল্পগুলো যেন পরিণত হয়েছিল মেগা ডাকাতির পরিকল্পনায়।”

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এই লুটপাটতন্ত্র থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে। উন্নয়নের নামে এই যে সীমাহীন অপচয় ও দুর্নীতি, তা আমরা সহ্য করিনি।”

ড. ইউনূস আরও জানান, “আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন মেগা প্রকল্প নতুনভাবে মূল্যায়ন করেছি। তাতে দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্রকল্পেই অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরঞ্জিত ব্যয় ধরা হয়েছিল। বিশেষ করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, রেল মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ—এই পাঁচটি খাতে ব্যয় সংকোচন করে ৪৬ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।”

এই বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের ফলে সরকার দ্রুত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এই অর্থ দিয়ে জ্বালানি খাতের সব বকেয়া পরিশোধ করে আমরা বকেয়ার পরিমাণ শূন্যে নিয়ে এসেছি। আমাদের অগ্রাধিকার ছিল বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং ঋণের ফাঁদ থেকে দেশকে মুক্ত করা।”
অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিষয়ে যে ইতিবাচক মনোভাব ও আগ্রহ রয়েছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।”
তিনি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, “যদি আমরা সঠিক পথে এগিয়ে যাই এবং সকলে মিলে এই দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করি, তবে নতুন বাংলাদেশ গড়া আর স্বপ্ন থাকবে না—তা হবে বাস্তবতা।”








