হাজীগঞ্জে রাজহাঁসের পা ভাঙাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় আহত ৫
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের বাখরপাড়ায় রাজহাঁসের পা ভাঙাকে কেন্দ্র করে নাছিমা বেগম ও তার মেয়ে রিমা আক্তারকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণালংকার লুট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশি লিয়াকত মিজি ও জাহাঙ্গীর মিজির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে বাখরপাড়া নোয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে বিবাদী মোঃ লিয়াকত মিজি লাঠি দিয়ে তাদের একটি রাজহাঁসের পা ভেঙে দেন। এরপর বিকেলে বিবাদী মাহমুদা বেগমের সঙ্গে বাদিনির মায়ের কথা কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে জাহাঙ্গীর মিজির নেতৃত্বে আরও ৭ জন একত্র হয়ে ধারালো অস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে হামলা চালায়।

এ সময় তারা রিমা আক্তার ও তার মেয়ে সানজিদা আক্তারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে মাহমুদা বেগম বাদিনির গলায় থাকা দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং সায়েরা বেগম রিমার হাতে থাকা ৪৫,০০০ টাকা দামের একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায়।



অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বাদিনির মা বাসিমা বেগমের গলায় দা দিয়ে কোপ মারার চেষ্টা করে। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তার গলার বাম পাশে কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় রিমা আক্তারের কিশোরী মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং জামাকাপড় টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহতদের উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক সানজিদার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রিমা আক্তার বলেন, “আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বারবার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, কিন্তু কেউ মুখ খুলছে না তাদের ভয়ে।” এই বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে একাধিক ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”






