শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বিচার শেষে আ.লীগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫, ৮:৫৭ পিএম
বিচার শেষে আ.লীগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হওয়ার পরই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বুধবার যুক্তরাজ্যের চ্যাথাম হাউস আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। লন্ডনে চার দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন ড. ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগের কেউ এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার চলছে। জনগণের নিরাপত্তা বিবেচনায় দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে গত ১৭ বছরে সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং অগ্রাধিকার।”

Model Hospital

চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ড. ইউনূস জানান, “জুলাই সনদ চূড়ান্ত করতে আমরা সব রাজনৈতিক দলের মতামত নিচ্ছি। একমাত্র ঐকমত্যই হতে পারে ভবিষ্যতের ভিত্তি।”

সভায় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর আমি আর কোনো সরকারে থাকবো না। আমাদের কাজ সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা এবং জনগণকে সন্তুষ্ট করা।”

নতুন বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কার কমিশন গঠন করেছি, যা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছে। কমিশনের সুপারিশই ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।”

সরকারি সেবা নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আগে সরকারি সেবায় ‘মাধ্যম’ প্রয়োজন হতো, যা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করত। এখন এসব সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণ সরাসরি সুবিধা পায়।”

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “সাত বছর আগে শিশু হিসেবে যারা এসেছিল, তারা এখন যুবক। মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের খরচ বহন নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।”

উল্লেখ্য, ড. ইউনূস ৯ জুন চার দিনের সফরে লন্ডন যান। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম ইউরোপ সফর। আগামী ১৪ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।