সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় সরিষার বাম্পার ফলন! কৃষকের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১১:২১ এম
কচুয়ায় সরিষার বাম্পার ফলন! কৃষকের মুখে হাসি

মো. রাছেল : তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কচুয়া উপজেলায় রোপা আমন পরবর্তী সময়ে পতিত জমিতে তেলজাতীয় ফসল প্রদর্শনী বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে । ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে। সাধারণত রোপা আমন কিংবা বোনা আমন কর্তনের পর দুই থেকে আড়াই মাস জমি পতিত থাকে। তারপর জানুয়ারি শেষ দিকে বোরো মৌসুমের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়। এই সময়টিকে অনাবাদি না রাখতেই এই কৌশল অবলম্বন করে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

চলতি মৌসুমে ১৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত হওয়ায় তার মধ্যে ১৬০ হেক্টর সরিষার অবাধ হয়েছে। গত বছর ১৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা অবাদ হয়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ছে । আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর প্রত্যেক চাষী অধিক মুনাফা লাভ করবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সোফায়েল হোসেন বলেন, তেল জাতীয় ফসলের বৃদ্ধি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্যাটার্ন ভিত্তিক প্রদর্শনী করা হয়েছে। একই কৃষক সরিষা পরবর্তীতে বোরোধান এবং আমন ধান করার জন্য উপকরণ পাবে। এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ভোজ্য তেল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। দেশে প্রতিবছর ২৪ হাজার ৮শত কোটি টাকার ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, রোপা আমনের ধান কর্তনের পর বোরোধান রোপণের মাঝে স্বল্পমেয়াদী বারি সরিষা ১৪, বারি সরিষা ১৭ জাতগুলো আবাদ করা যায়। এগুলো ৭৫ দিনের মধ্যেই ফলন এসে যায়, গড় ফলন বিঘা প্রতি ৪-৫ মণ। যা তেল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করবে, পাশাপাশি জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করবে। সরিষা- বোরো-পতিত কিংবা সরিষা-বোরো-বোনা আমন, সরিষা- বোরো – রোপা আমন ক্রপিং প্যাটার্ন ভিত্তিক এই প্রকল্পের আওতায় কচুয়া উপজেলায় বিভিন্ন ব্লকে একাধিক প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

Model Hospital

কচুয়া উপজেলার তুলপাই ব্লকের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহয়তায় এই প্রথম আমাদের এলাকায় ব্লকে প্রদর্শনী করে ৩ একর জমিতে সরিষা আবাদ করেছি, আগামীতে আমাদের কাছ থেকে অনেকেই বীজ নিয়ে আবাদ করবে।

পালাখাল ব্লকের আষার কোটা গ্রামের স্থানীয় কৃষক আলী মিয়া, আব্দুল রশিদ জানান, গত বছর সরিষা ভালো দাম পাওয়ায় চলতি বছরে সরিষা বেশি অবাদ করেছি। ভালো ফলন হয়েছে অবশ্যই দাম পাবো বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য যে, তেলজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ ও আমদানি হ্রাসকল্পে প্রকল্পটি দেশের ২শত৫০ টি উপজেলায় ২০২৫ সাল পর্যন্ত কাজ করবে।

হাজীগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্য, স্বামী ও স্ত্রীর পরিবারের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
হাজীগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্য, স্বামী ও স্ত্রীর পরিবারের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গৃহবধূ মিম আক্তারের (২৪) বিষপানে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন স্বামী ওমর ফারুকের পরিবারের সদস্যরা। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।

নিহত মিম আক্তার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল এলাকার প্রবাসী ওমর ফারুকের স্ত্রী। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার বিষপান করেন মিম। পরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা চলে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

মিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, স্বামীর পরকীয়ার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Model Hospital

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফারুকের পরিবার। তাদের দাবি, মিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাঁর পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিতে দেখা যায়নি। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নেওয়ার সময়ও তাঁর পরিবারের কাউকে সঙ্গে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।

ফারুকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, মিমের মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক অশান্তিসহ অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, মিম নিজের মা ও নিকটাত্মীয়দের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় মানসিকভাবে বিব্রত থাকতেন।

ফারুকের বোন রিনা বেগম বলেন, বিয়ের সময় তাঁর ভাইকে জানানো হয়েছিল, মিমের মা মারা গেছেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন, ওই সময় মিমের মা অন্য এক পুরুষের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি গোপন রেখেই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রিনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, মিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। অথচ মিমের মরদেহ বাড়িতে আনার পর তাঁরা সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় মিমের মা, খালা ও বোনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মিমের স্বামী ওমর ফারুক বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সংসারে তেমন কোনো সমস্যা ছিল না। তিনি নতুন করে ঘর নির্মাণ করেছেন এবং মিমকে নিয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আরও বলেন, “আমি দেশে এলেও মিমকে ছাড়া কোথাও যেতাম না, এমনকি বাইরেও আড্ডা দিতাম না। তবে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিম মানসিকভাবে বিব্রত থাকতেন বলে আমার ধারণা।”

ফারুকের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের বিষয়ে একই বাড়ির বাসিন্দা সুরুভী বলেন, ফারুক দীর্ঘদিন বিদেশে থাকেন। তাঁর বড় ভাইয়ের স্ত্রীও এখানে থাকেন না। এমন পরিস্থিতিতে পরকীয়ার অভিযোগ কীভাবে সম্ভব—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগটিকে গুজব বলে দাবি করেন।

এদিকে ফারুকের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ফারুকের বিদেশ যাওয়ার টিকিট আগে থেকেই কাটা ছিল। পাশাপাশি তার ভিসা ও টিকিটের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসায় তিনি আর সেখানে থাকতে পারেননি, বাধ্য হয়েই তাকে চলে যেতে হয়েছে। তবে বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান ওই বাসিন্দা।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাওসার আলম বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।