রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে ভাইদের বঞ্চনা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন

মো. মোশারফ হোসেন ও মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫, ৮:৪৬ পিএম
হাজীগঞ্জে ভাইদের বঞ্চনা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন

আপন ভাই বোনসহ ৭ পরিবারের সম্পত্তি আত্মসাৎ করায় আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে চরম অনিয়ম, জুলুম ও হয়রানির অভিযোগে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম গন্ধর্ব্যপুর গ্রামের মুন্সী বাড়ির তিন ভাই মোঃ ইমাম হোসেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন এবং মোঃ তোফাজ্জল হোসেন তাদের বড় ভাই মোঃ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ ও নানা অপকর্মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন।

তাদের অভিযোগ, পৈত্রিক, হেবা ও ক্রয়কৃত সম্পত্তির সুষ্ঠু ভাগাভাগি না করে বড় ভাই আনোয়ার হোসেন একতরফাভাবে সেই জমি নিজের সন্তানের নামে দান করে দেন, যার ফলে তারা সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হন। বিভিন্ন সালিশ বৈঠকেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহায়তা চাচ্ছেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, “আমাদের সম্পত্তি নিয়ে বিচার চেয়েও বিচার পাচ্ছি না। বরং উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা ও হুমকির মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমরা সুবিচার চাই।”

Model Hospital

আরো জানা যায়, আনোয়ার হোসেন হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি ও তার ছেলে ইলিয়াস হোসেন সাদ্দাম, যিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত, তার নাম ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটাচ্ছেন এবং একের পর এক জুলুম করে চলেছেন। এতে এলাকাবাসীও আতঙ্কিত।

সংবাদ সম্মেলনে এলাকার আরও দুই ব্যক্তি মোঃ ওসমান গণি ও মোঃ মানিক নিজেদের প্রতারিত হবার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ওসমান গণি জানান, “আমি দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি, কিন্তু আনোয়ার ও তার ছেলে আমাকে সেই জমিতে যেতে দিচ্ছে না।”

মানিক বলেন, “আমি নূর বানুর কাছ থেকে ১.৫০ শতাংশ জমি কিনে ভোগদখল করতে পারছি না। সন্ত্রাসী কায়দায় আমাকে ভয় দেখাচ্ছে।”

তারা বলেন, আনোয়ার হোসেন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ মানুষ, এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদেরও জিম্মি করে রেখেছেন। মামলা, হামলা ও ভয়ভীতি তার প্রধান অস্ত্র।

এছাড়াও আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আরাফাত হোসেন, মেহেদী হাসান ও আরমানও এসব কর্মকান্ডে জড়িত।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সকল সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে আমাদের কণ্ঠ যেন প্রশাসনের কর্ণগোচরে পৌঁছে। আমরা বিচার চাই, শান্তি চাই।”

সাংবাদিক সম্মেলনে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরিফের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের মোঃ ইসমাইল হোসেন, মোঃ ওসমান গনি, মোঃ মানিক হোসেন, মোঃ তাজুল ইসলাম, শামসুন্নাহার, তাসলিমা বেগম সহ স্থানীয়, জাতীয় প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক বৃন্দ।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।