বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা

চাঁদপুর কামরাঙ্গা কলেজে ব্যবহারিক খাতা স্বাক্ষর ৮শ’ ও এডমিট ১ হাজার !

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০২৫, ১২:০৬ পিএম
চাঁদপুর কামরাঙ্গা কলেজে ব্যবহারিক খাতা স্বাক্ষর ৮শ’ ও এডমিট ১ হাজার !

দেশজুড়ে যখন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এডমিট কার্ড ও ব্যবহারিক খাতা সাইন নেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, বিজ্ঞান শাখায় ২৭৮৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২২২৫ টাকা ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত। এই ফিতে কেন্দ্র ফি, ব্যবহারিক খরচসহ সকল প্রয়োজনীয় খরচ অন্তর্ভুক্ত।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ফরম পূরণ শেষে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, এডমিট কার্ড তুলতে প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে ‘এডমিট ফি’ দিতে হবে। একইসঙ্গে প্র্যাকটিক্যাল খাতায় স্বাক্ষরের জন্য মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের ৬০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৮০০ টাকা করে দিতে বলা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজের শিক্ষকরা অফিসে ডেকে এনে সরাসরি টাকা দাবি করেছেন। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা নিজেরা বাজার থেকে ২০০ টাকা দিয়ে প্র্যাকটিক্যাল খাতা কিনেছি। নিজেরা লিখেছি, এঁকেছি। এখন শুধু স্যারের একটি সাইনের জন্য ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এটা খুবই অন্যায়।”

Model Hospital

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বোর্ড ফি দেওয়ার পর আবার কেন ১০০০ টাকা করে এডমিট ফি? প্র্যাকটিক্যাল খাতায় সাইন নেওয়ার জন্য ৬০০ টাকা? এটা তো শিক্ষা নয়, নির্যাতন!”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ কজী সাইফুর রহমান বলেন, “আমি এখন কলেজে নিয়মিত যাই না। কেউ যদি অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে, আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।”

তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন স্থানীয় প্রশাসন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো বিধান নেই। যদি অভিযোগ সত্য হয়, আমি অধ্যক্ষকে অফিসে ডেকে ব্যাখ্যা চাইব এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, সরকার যেখানে নির্ধারিত ফি দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে, সেখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে ছাত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে পারে? অনেকের মতে, এটি একটি ‘সংগঠিত আর্থিক হয়রানি’, যা প্রশাসনিক নজরদারির অভাবেই বারবার ঘটছে।

সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, শিক্ষার নামে এই ধরনের অর্থ আদায় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং তরুণ প্রজন্মকে হতাশ করছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital