বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে প্রশাসন খুলে দিলেন চলাচলের বন্ধ দু’টি রাস্তা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫, ৬:১৭ পিএম
শাহরাস্তিতে প্রশাসন খুলে দিলেন চলাচলের বন্ধ দু’টি রাস্তা
শাহরাস্তিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুটি পৃথক অভিযানে জনসাধারণের চলাচলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা দুটি রাস্তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার এবং শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল বাসার-এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রশাসনের দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই ২০২৫) বিকেলে রায়শ্রী উত্তর ইউপির উল্লারশ্বর গ্রামে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানে স্থানীয়দের একমাত্র চলাচলের রাস্তা পারিবারিক বিরোধের কারণে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যানবাহন এবং এলাকাবাসী।
অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও ও ওসি সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বেড়া অপসারণ করে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (১ জুলাই ২০২৫) সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রাগৈ গ্রামে যুগি বাড়ি সংলগ্ন একটি দীর্ঘদিনের জনপথ হঠাৎ করে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শতাধিক মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ নেমে আসে। সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয়দের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে ইউএনও ও ওসি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন ও চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেন।
এসময় ইউএনও নিরুপম মজুমদার বলেন “জনগণের চলাচলের অধিকার সাংবিধানিক অধিকার। এটি কোনো ব্যক্তির খেয়ালখুশির উপর নির্ভর করে না।
“পথচলাচলে বাধা সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন,”পারিবারিক সমস্যা গ্রাম্যভাবে সমাধান করুন। প্রয়োজনে প্রশাসন পাশে থাকবে।”
ওসি আবুল বাসার বলেন,“এটি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়, জনস্বার্থের বিষয়। সাধারণ মানুষের পাশে প্রশাসন সবসময় আছে।”প্রশাসনের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপে স্থানীয়রা ব্যাপকভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দেয় এবং প্রশাসনের প্রশংসা করেন অনেকেই।একটি চলাচলের পথ খুলে দিয়ে প্রশাসন যে আস্থা ও অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে, তা জনগণের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।