শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

লঞ্চ চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১, ৪:৪৫ পিএম
লঞ্চ চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

মনিরুল ইসলাম মনির : জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণার পর এবার চূড়ান্ত ভাবে বন্ধ হল যাত্রীবাহী লঞ্চ। ৭ নভেম্বর রোববার সকাল থেকে চাদঁপুর লঞ্চঘাটের সবরুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক সমিতি।

চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে রাতে কয়েকটি লঞ্চ সদর ঘাটে ভিড়েছে। তবে সকাল থেকে কোনো লঞ্চ চাঁদপুর ঘাট থেকে ছেড়ে যায়নি। ঘাট এলাকা থেকে লঞ্চগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে লঞ্চ না পেয়ে যাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে বিকল্প বাহনে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। লঞ্চ ও বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অচল হয়ে পড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রী বিলকিস বেগম জানান, আমি আমার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ভোরে লঞ্চঘাটে এসেছি। কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করেও কোন লঞ্চ ছাড়েনি। লঞ্চের জন্য সারাদিন অপেক্ষা করবো, দেখি কখন লঞ্চ ছাড়ে। ইব্রাহীম নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘বাস-লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, মূলক ক্ষতি সাধারণ মানুষের হচ্ছে। তাদের দ্বিধা দ্বন্দ্বে আমরা সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ি। শেষ মেশ ভাড়া বৃদ্ধিই করা হবে। যত দুর্ভোগ সব সাধারণ মানুষের। লঞ্চতো পাচ্ছি না, এখন কয়েকজন এক হয়ে গাড়ি নিয়ে ঢাকায় যাব। লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার বলেন, ভাড়া সমন্বয় করার দাবিতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমাদের পক্ষে লঞ্চ চালিয়ে পোশাবে না।

চাঁদপুর থেকে রাত ১২.১৫ মিনিটে সর্বশেষ লঞ্চ চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে গেছে। এরপর আমরা সকাল থেকে সব লঞ্চ বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক কায়সারুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক কতৃপক্ষ। ঘাট থেকে কোন লঞ্চ ছাড়ার সিন্ধান্ত এখনো আসেনি।

Model Hospital

গত বৃহস্পতিবার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর শুক্রবার থেকে ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। তার একদিন পরই লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশনা আসে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’