শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

হাইমচরে প্রসূতি নারীদের আপন ঠিকানা আলগী দ. ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৭:৫০ পিএম
হাইমচরে প্রসূতি নারীদের আপন ঠিকানা আলগী দ. ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট এমন প্রবাদ থাকলেও বাহিরে সদর ঘাট ভিতর ফিটফাট রয়েছে হাইমচর উপজেলার আলগী দূর্গাপুর দক্ষিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রটি। নরমাল ডেলিভারি ও গর্ভবতী নারীদের আপন ঠিকানা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। বাহির থেকে দেখলে দেখা যায় পুরনো জরাজীর্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি’ সেবার দিক থেকে ভিতরটা একবারেই অন্যরকম। গ্রাম অঞ্চলে বিনা খরচে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া সাধারণ মানুষের অনেক বড় পাওয়া। সাধারণ পরিবারের কষ্ট লাগবে কাজ করে যাচ্ছে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। যা প্রশংসার দাবীদার বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা জায়, উপজেলা সদর আলগী বাজার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে গন্ডামারা এলাকায় জরাজীর্ন আলগী দূর্গাপুর দক্ষিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রটি। প্রসূতি সেবা দানে এ কেন্দ্রটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। হাইমচর উপজেলাসহ ফরিদগঞ্জ, রায়পুর ও আশেপাশের গর্ভবতী ও প্রসূতিদের কাছে নিরাপদ সন্তান প্রসবের আস্থা হয়ে উঠেছে এ কেন্দ্রটি।

এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য দিন-রাত ২৪ ঘন্টা খোলা থকে। বিনা খরচে সন্তান প্রসব শেষে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান মায়েরা। যার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশসহ পাশ্ববর্তী এলাকাতেও। গত মাসে ৩৭জন নরমাল ডেলিভারি মাধ্যমে এক বছরে প্রায় ৪৫০ জন প্রসূতি মা নিরাপদে সন্তান প্রসব করেছেন। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে থেকে ডেলিভারি রোগী চাঁদপুর রেপার করা রোগীও এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারি এবং সিজারের পরামর্শ দেয়া রোগীরও নরমাল ডেভিভারি হওয়ার সুনাম রয়েছে ।

গত জানুয়ারি মাসে এ কেন্দ্র থেকে ২জন গর্ভবতী নারীকে অন্যত্র রেপার করা হয়। ১৫৪ জন গর্ভবতী নারীকে গর্ভকালীন সেবা দেয়া হয়। সন্তান প্রসবের পর গত মাসে ৮২জন মা’কে সেবা প্রদান করা হয়েছে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে। এ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রমে গত জানুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এস এসি এমও বিনু রানী প্রসূতি সেবা দানে ও নিরাপদ প্রসবের জন্য জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট সম্মামনা পান।

Model Hospital

চরপোড়া মুখি গ্রামের মাজেদা বেগম জানান, তার ভাশুরের মেয়েকে নিয়ে চাঁদপুর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসক তাকে সিজার করতে হবে জানান। তার ভাশুরের মেয়ে সিজার হতে না চাওয়ায় তাকে এ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। বিনু রানীর মাধ্যমে বিনা অপারেশনে ৪ কেজি ওজনের একটি কন্যা সন্তান ভ’মিষ্ট হয়। তিনি বলেন, প্রসবের পরবর্তী সেবাও তারা এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে নেন। তার ভাশুরের মেয়ে ও সন্তান এখন সুস্থ্য রয়েছেন। পশ্চিমচর কৃষ্ণপুর গ্রামের লাকী বেগম জানান, আমার বোন আমার বাড়িতে বেড়াতে আসলে তার প্রসববেদনা হয়। প্রথমে তাকে হাইমচর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তারা চাঁদপুর নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। লোকের মুখে আলগী দক্ষিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংবাদ জেনে সেখানে নিয়ে যাই। সেখানে আমার বোনের নরমাল ডেলিভারিতে একটি কন্যা সন্তান হয়। তিনি বলেন, নিরাপদে বোনের সন্তান প্রসব হয়েছে, অন্য দিকে খরচ কম হয়েছে। সত্যিকার অর্থে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির সেবা অনেক ভাল।

আলগী দক্ষিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এস এসি এমও বিনু রানী বলেন, এখনকার স্থানীয় লোকজন ও আমার সহকর্মীদের সহযোগীতায় এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রসূতি নারীদের নরমাল ডেলিভারি করে আসছি। এ পর্যন্ত আমরা নরমাল ডেলিভারি করতে গিয়ে তেমন কোন জটিল সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়নি।

আমি প্রসূতি মা’দের সেবা প্রদানের লক্ষে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। প্রসূতি মা’দের সেবা দেয়ার জন্য আমি ২৪ ঘন্টাই সজাগ থাকি। তিনি বলেন, আমাদের এ কেন্দ্রে কোন মাসে ৪০জন কোন মাসে ৩৭জন আবার কোন মাসে ৩৫জন গর্ভবতী মা’দের নরমাল ডেলিভারি করে থাকি। এজন্যই আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে গত ১৮ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।