শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫, ১০:০০ পিএম
শাহরাস্তিতে খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতায় অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র শাহরাস্তি পৌরসভার প্রসিদ্ধ ঠাকুর বাজার এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিরুপম মজুমদার। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত এই অভিযানে মেহের খোদা খালের ওপর অবস্থিত দুটি স্থায়ী ভবন যেখানে বহুল পরিচিত “আমানিয়া হোটেল” দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল পুরোপুরি উচ্ছেদ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়কালে তৎকালীন পৌর মেয়রের ছত্রছায়ায় খালের জায়গা দখল করে হোটেলটি নির্মাণ করা হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি জলাধারের ওপর দোতলা ভবন নির্মাণ করে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার কারণে একদিকে যেমন জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল, অন্যদিকে শহরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিও দিন দিন প্রকট হচ্ছিল।

নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৫ আগস্ট থেকে একাধিকবার হোটেল কর্তৃপক্ষকে লিখিত নোটিশ, মাইকিং ও মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হয়। তবে তারা কোনো নির্দেশনা না মেনে দখল বজায় রাখে। এরই প্রেক্ষিতে আজকের এই চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

Model Hospital

অভিযান চলাকালে এসিল্যান্ড নিরুপম মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন- “সরকারি খাল রক্ষা ও জনস্বার্থে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার সব ধাপ অনুসরণ করে অবৈধ দখলদারদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নির্দেশ অমান্য করায় বাধ্য হয়েই আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, শুধু হোটেলই নয়, খালের আশেপাশে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“সরকারি খাল, রাস্তা কিংবা যেকোনো খাসজমি দখলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।” — বলেন সহকারী কমিশনার।

এদিকে ঠাকুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী, পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে “সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন।

তারা জানান, “স্রোতধারা বন্ধ করে দিয়ে এভাবে খালের ওপর ব্যবসা পরিচালনা পুরো শহরের পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছিল।”

স্থানীয় উন্নয়ন কর্মীরা বলেন, “শুধু উচ্ছেদ নয়, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং সিস্টেমেটিক ড্রেনেজ প্ল্যান ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।”

এ অভিযানের সময় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল এবং বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদের সময় কোনো প্রকার সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ আটক ২

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চ থেকে ঘাটে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মুকবিল-২ লঞ্চ ও লঞ্চের ২জন স্টাফকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চ থেকে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় ওই যুবক লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে আবার লঞ্চে ওঠেন। পরে তিনি ফের লঞ্চ থেকে নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

ঘটনার পর মুকবিল-২ লঞ্চ দ্রুত সেখান থেকে মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা লঞ্চটি এবং ২জন স্টাফকে আটক করেন বলে জানিয়েছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন।

Model Hospital

স্থানীয় সৈকত নামের একজন বলেন, লঞ্চ চালকদের ভুলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। ষাটনল লঞ্চঘাটে আগে এমন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এদিকে লঞ্চযাত্রীরাও যাত্রী ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. ইমন জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

বেলতলী নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে বেলতলী নৌ পুলিশ, মোহনপুর নৌ পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সদস্যরাও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এদিকে দুর্ঘটনা প্রায় ৩ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল। জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সড়কপথে তাদের ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরী হওয়ার বিষয়ে চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ষাটনল লঞ্চঘাটে একজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পান তারা। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সড়কপথে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর ডুবুরি দলকে দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলও একই সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, খবর পাওয়ার পর চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসা হয়েছে।ঘটনাস্থলে ৪ জন ডুবুরি দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে নদীতে স্রোত থাকায় ঘটনাস্থলে না পাওয়া গেলে ভাটির দিকে তল্লাশি চালানো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানোর কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের সঙ্গে কথা বলি। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।