শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সংস্কারে চেয়ারম্যানের টাকা দাবির অভিযোগ স্থানীয়দের

হাজীগঞ্জে কাঁচা রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ধান রোপণ করে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ

মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ৯:১৫ পিএম
হাজীগঞ্জে কাঁচা রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ধান রোপণ করে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ২ নং বাকিলা ইউনিয়নের খলাপাড়া থেকে নাওহাটা সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ দীর্ঘদিন ধরে কাঁদা ও খানাখন্দে ভরে থাকার কারণে চারটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই সড়ক সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটেছে।

৯ আগস্ট শনিবার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সড়কের কাদাময় মাটিতে ধানের চারা রোপণ করেন। তারা জানান, বহু বছর ধরে সড়ক সংস্কার বা পাকা করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামতে হয়েছে।

সরেজমিনে সড়ক পরিদর্শনে দেখা গেছে, কাদা ও পানিতে সড়কটি মোটরসাইকেল, ভ্যান, সাইকেলসহ যেকোনো যানবাহনের চলাচলের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অসুস্থ রোগী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, খলাপাড়া, সিদলা, কর্দি সিদলা, ফুলচোঁয়া ও নাওহাটা এলাকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই সড়ক। সড়কের বেহাল দশার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কাজে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

Model Hospital

স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান মিয়া জানান, আমরা ১৫ দিন আগে চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম গ্রামের আটজন। তখন চেয়ারম্যান আমাদের কাছে বলল এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিতে। দিলে দ্রুত রাস্তার কাজ হয়ে যাবে। আমরা ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছিলাম।

আরো কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলনের কাছে বারবার সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও চেয়ারম্যান জানান, সড়ক পাকাকরণের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। কাজ দ্রুত শুরু করতে হলে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রয়োজন, যা তারা দিতে না পারায় কাজ আটকে রয়েছে। প্রতিবাদকারী গ্রামবাসীরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ পাকা করার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু অনুমোদন মেলেনি। বর্তমানে ৮শ মিটার রাস্তার জন্য নতুন পরিকল্পনার আবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত টেন্ডার দেওয়া হবে।

চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের আগে আমলে নির্বাচন করে তিনবার চেয়ারম্যান হয়েছি। আমি মানুষের রাস্তা আরো করে দেই, আমি কেন টাকা চাইবো? আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, “রাস্তার বিষয়টি আইডি নম্বর থাকলে এলজিডি এসব কাজ করে থাকে এবং মন্ত্রণালয়ে এস্টিমেট পাঠায়। এখন তারা পাঠিয়েছে কিনা আমি নিশ্চিত নই, তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তাদের মুক্তি দিতে।

স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তাদের মুক্তি দিতে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital